নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নেই, আইনজীবীরা সচেতন ভোটার
ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থিদের আইনজীবীরা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা নীল প্যানেল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে।
আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে গুরুতর জালিয়াতি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে নীল প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া।
বিএনপিপন্থি নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস পেয়েছেন ১৪৬ ভোট।
পুরো প্যানেলের এমন নিরঙ্কুশ বিজয় এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জেতার পর সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, ছবি: সংগৃহীত
জাগো নিউজ: নির্বাচনে ভোটের ধরন ও ফলাফল নিয়ে আপনি কী বলবেন?
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: এখানে ফুসলিয়ে বা প্রভাবিত করে ভোট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোটাররা সবাই আইনজীবী, তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের পক্ষে ভালো ভোট পড়েছে এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।
জাগো নিউজ: প্রতিপক্ষের ভোট ও ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: আমরা জানি, অনেক ক্ষেত্রে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট আমাদের সঙ্গে প্রায় সমান-সমান অবস্থানে থাকে। এবার তাদের অনেকেই ভোট দিতে আসেননি। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির কারণেও ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল।
জাগো নিউজ: এনসিপি-সমর্থিত ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স নির্বাচনে জালিয়াতি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: তাদের অভিযোগ আমরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না। আমাদের দৃষ্টিতে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। যে প্যানেলের যতটুকু ভোট পাওয়ার কথা, তারা সেটাই পেয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ্য ও নিয়মের মধ্যেই হয়েছে। এখানে গোপনে বা পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করার কোনো সুযোগ ছিল না। তারা ফলাফলও মেনে নিয়েছেন।
বর্তমানে যে অভিযোগ আসছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। এখানে পরিকল্পিতভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
জাগো নিউজ: সমিতির কার্যক্রম পরিচালনায় আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী থাকবে?
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: সমিতির কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হবে। এখানে সবার মতামত ও সিদ্ধান্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে। এটি কোনো এককভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান নয়।
জাগো নিউজ: আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: সমিতিতে আয়-ব্যয়ের বিষয় রয়েছে, যা অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাগো নিউজ: নির্বাচনে জয়লাভ করায় আপনাকে অভিনন্দন। আমাদের সময় দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ।
আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।
এমডিএএ/এমএমএআর/এমএফএ