শুনানিতে মাসুদ উদ্দিন

একই দিনে একই সময়ে কীভাবে দুই হত্যার নেতৃত্বে ছিলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ এএম, ০৫ মে ২০২৬
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের করা বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একই দিনের একই সময়ে ঘটে যাওয়া আরেক মামলায় তিনি আগে থেকেই রিমান্ডে ছিলেন। তার ভাষায়, একই সময় আমি দুটি ঘটনায় নেতৃত্ব দিলাম, এটা কীভাবে সম্ভব?

সোমবার (৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। তার বক্তব্যের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, দুটি ঘটনা আলাদা প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এবং ভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ আদালতকে বলেন, মামলার স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শুনানির সময় বিচারক তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও জানতে চান। জবাবে মাসুদ উদ্দিন জানান, তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী উম্মে হাবিবা রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, তার মক্কেল বয়স্ক ও অসুস্থ। তিনি এরইমধ্যে একাধিক মামলায় রিমান্ডে ছিলেন এবং বর্তমান মামলার এজাহারেও তার নাম নেই। এসব বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রথমে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অনুমতি দেন। পরে রিমান্ড শুনানিতে আরেক ম্যাজিস্ট্রেট তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে আহত হয়ে বিপ্লব শেখের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডিবির এক অভিযানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মানবপাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় পল্টন মডেল থানায় তাকে তিন দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে মিরপুরের দেলোয়ার হত্যা মামলায় ৭ এপ্রিল চার দিনের এবং ১১ এপ্রিল আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সব মিলিয়ে পাঁচ দফায় ২২ দিনের রিমান্ডে ছিলেন তিনি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। এ সময় সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন (৪০)। তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে ২১ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এমডিএএ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।