ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

অস্ত্রাগার থেকে চায়নিজ রাইফেলের গুলি পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
গুলিবিদ্ধ ইমাম হাসান তাইমকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার এক বন্ধু/ফাইল ছবি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের বেতার কনস্টেবল নাহিদ মিয়া। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে মাঠ পর্যায়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্রাগার থেকে চায়নিজ রাইফেলের গুলি ও সিসা গুলি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

রোববার (৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী হিসেবে নাহিদ মিয়া জবানবন্দি পেশ করেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে এখন পর্যন্ত নাহিদ মিয়া যাত্রাবাড়ী থানায় বেতার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। জবানবন্দিতে তিনি ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ঠিক করেছেন আদালত।

জবানবন্দিতে নাহিদ মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় তৎকালীন এসি (ডেমরা জোন) নাহিদ ফেরদৌস ওয়্যারলেসে সিসা গুলি চান। বিষয়টি তিনি তৎকালীন ওসি (যাত্রাবাড়ী থানা) আবুল হাসানকে জানালে লোকবলের অভাবে তাকে গুলি নিয়ে যেতে বলা হয়। নাহিদ মিয়া বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে’ তিনি থানার সামনে থেকে ২০০টি সিসা গুলি এসি নাহিদ ফেরদৌসের কাছে পৌঁছে দেন।

পরদিন ১৯ জুলাইও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নাহিদ মিয়া। ওই দিন যাত্রাবাড়ী মাছবাজার–সংলগ্ন আউটগোয়িং ফ্লাইওভারে ডিউটিরত পার্টি কমান্ডার ব্রাভো ট্যাংগো-২৮২ (এসি ট্রাফিক ডেমরা) ওয়্যারলেসে চায়না রাইফেলের গুলি চান এবং মাছবাজার–সংলগ্ন ইনকামিং ফ্লাইওভারে ডিউটিরত পার্টি কমান্ডার যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির চায়না রাইফেলের গুলি চান।

নাহিদ মিয়া বলেন, বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি অস্ত্রাগার থেকে গুলি দিতে নির্দেশ দেন। নির্দেশ থাকায় তিনি অস্ত্রাগার থেকে ৪০০টি গুলি নেন। এর মধ্যে ৩০০টি পার্টি কমান্ডার ব্রাভো ট্যাংগো-২৮২ (এসি ট্রাফিক ডেমরা) ও ১০০টি ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকিরের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। গুলি নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় ওয়্যারলেসে পার্টি কমান্ডারদের অশোভন কথাবার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই কনস্টেবল।

জবানবন্দিতে নাহিদ মিয়া বলেন, পরে ২০ জুলাই তিনি কানাঘুষায় জানতে পারেন, ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকির একজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তিনি সেই ঘটনার ভিডিও দেখেন বলেও দাবি করেন। ওই ভিডিওতে জাকিরকে গুলি করতে দেখা গেছে। যে ছেলেকে গুলি করা হয়েছে তার নাম তাইম।

গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ইমাম হাসান তাইম রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপ-পরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। তাইম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ইমাম হোসেন তাইম তার বন্ধুর সঙ্গে চায়ের দোকানে এসেছিলেন। সেখানে পুলিশ তাকে গুলি করলে আহত অবস্থায় তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল গুলিবিদ্ধ বন্ধু। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন পলাতক এবং দুজন কারাগারে।

পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক এসআই সাজ্জাদ উজ জামান।

কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। আজ এই দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এফএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।