হাদি হত্যা মামলার অধিকতর প্রতিবেদন ১৭ মে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে আদালত। টানা ১৩ দফা পিছিয়ে নতুন করে আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত সংস্থা তা জমা দিতে পারেনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।
গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ এই হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
পরে ১২ জানুয়ারি শুনানির দিন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন তিনি। এরপর আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়।
পুনঃতদন্ত শুরু হলে মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং পরবর্তীতে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত সরে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এমডিএএ/এমএএইচ/