শিক্ষার্থীদের জুতার মালা: এখনো শাস্তির বাইরে অভিযুক্ত শিক্ষক
বগুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরানোর ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ঘটনার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেবল শোকজ নোটিশ প্রদান করেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক এখনো সেই নোটিশের কোনো জবাব দেননি।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ঘটনাটিতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম কবীর জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে, তবে এখনো কেউ জবাব দেননি।
প্রধান শিক্ষিকার ফোন নম্বর বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জানা গেছে প্রধান শিক্ষিকা ছুটিতে রয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি নিজে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিভাবক কামরুল ইসলাম বলেন, সামান্য কারণে শিশুদের এভাবে অপমান করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। বিদ্যালয়ের ফল গাছতো শিক্ষার্থীদের জন্যই। এভাবে শাস্তি না দিয়ে বোঝাতেই পারতো।
তিন শিক্ষার্থীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা জানান, যা বলার তদন্ত কমিটির কাছেই বলবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়নের বুজুর্গধামা সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা একটি আম গাছ থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আম পেড়ে খায়। ঘটনায় পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোলসান আরা বেগম তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। একইসঙ্গে তাদের হাতে ‘আম চোর’ লিখে কাগজ ধরিয়ে জুতার মালা গলায় পরিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঘোরান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এফএ/এমএস