রাষ্ট্রপক্ষের দাবি

শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেন ইনু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনু, ফাইল ছবি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে শেখ হাসিনাকে প্ররোচনা দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) তার ওপরেও বর্তায়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের তথা প্রসিকিউশনের পক্ষে এমন যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এর পর মামলার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত মুলতবি করেন।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানিতে এমন দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ; সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও অ্যাডভোকেট হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মুহাম্মদ মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, আব্দুস সোবান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুল ইসলামের বক্তব্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডের প্রসঙ্গ তোলা হয়, যেখানে গণআন্দোলনকে জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে দমনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

আসামিপক্ষের দাবি, হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডের কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি করতে হবে, বোম্বিং করতে হবে বা নির্যতন করতে হবে, এমন কোনো বক্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও ইনুর এমন বক্তব্য বা তথ্য নেই যে, তিনি আন্দোলন দমনে কাউকে গুলি করতে বা নির্যাতন করতে উসকানি দিয়েছেন বা ষড়যন্ত্র করেছেন।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর, সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই শুনানি শেষে ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ইনু গ্রেপ্তার হন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

এফএইচ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।