ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তারা সবাই পলাতক।
রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন হতে পারে।
এর আগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৭ মে দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন মামলার দায়িত্বরত প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাছিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।
প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।
এফএইচ/এসএনআর