শিক্ষক শ্যামল কান্তি লাঞ্ছনার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু


প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গত ৩১ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। রোববার হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে পুরো ঘটনা বিচারিক তদন্তে গত ১০ অগাস্ট নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

আদালত বলেন, ওই ঘটনা তদন্ত করে আগামী ৩ নভেম্বরে মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য। আগামী ৬ নভেম্বর প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য বিষয়টি উক্ত বেঞ্চে উঠবে বলে আদেশ দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বলেন, হাইকোর্টের আদেশে গত ৩১ আগস্ট বুধবার থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কাজ শুরু করেছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান। এর মধ্যে সংবাদ প্রকাশিত সংবাদের কপি চেয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিএমএম (বিচারক) শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জও যাবেন, বলেও জানান সাব্বির ফয়েজ।

তিনি আরও বলেন, সমকাল, ইত্তেফাক, যুগান্তর, প্রথম আলো, চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর, সময় টিভি, এসএ টিভিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

একটি চিঠিতে বলা হয়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে উক্ত ঘটনার বিষয়ে আপনার পত্রিকয় গত ১৮-মের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তারিখে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিবেদন নিম্ন স্বাক্ষরকারী বরাবরে সাত দিনের মধ্যে পাঠানোর জন্য নির্দেশ এবং অনুরোধ করা হলো।
সিএমএম কোর্টের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরে এসব চিঠি পাঠানো হয়। গত ১০ অগাস্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেন হাই কোর্ট।

নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একেএম সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করলেও পুলিশ তদন্ত করে ৭ অগাস্ট আদালতে যে প্রতিবেদন দেয়, তাতে বলা হয় ওই ঘটনায় এই সংসদ সদস্যের কোনো দোষ তারা পায়নি।

হাইকোর্ট আদেশে বলেছে, সাধারণ ডাইরির পরিপ্রেক্ষিতে ওই ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনটি ‘অসম্পূর্ণ ও অসমন্বিত’।

আদালত আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে যে বিচারক (নারায়ণগঞ্জ আদালতের) ওই প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে রাখেন, তিনি তাতে ‘বিচারিক মন প্রয়োগ করেননি’।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে গত ১৩ মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

এফএইচ/এআরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।