ফোরজি লাইসেন্স কার্যক্রমে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮
ফোরজি লাইসেন্স কার্যক্রমে বাধা নেই

চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) সেবার লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামের আবেদন চেয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) বিজ্ঞপ্তি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

ফোরজি নিয়ে বিটিআরসির কার্যক্রমে আপাতত আর কোনো অনিশ্চয়তা থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের আবেদনের সময় রোববারই শেষ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ আগামী রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

চেম্বার আদালতে আজ বিটিআরসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসও শুনানিতে ছিলেন। অন্যদিকে বাংলালায়নের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর টেলিযোগাযোগের ফোরজি সেবার লাইসেন্স ও তরঙ্গ নিলামের নীতিমালা গত ২৯ নভেম্বর হাতে পেয়েছে টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর ৪ ডিসেম্বর ফোরজি লাইসেন্সের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তরঙ্গ নিলামের জন্য সেখানে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন রেখে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে আগ্রহীদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়। অনুমোদিত নীতিমালায় বলা হয়, ফোরজি লাইসেন্সের জন্য নিলাম হবে না। আবেদন করে নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে লাইসেন্স নেয়া যাবে। আর ফোরজি তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে অংশ নিতে হবে নিলামে।

বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি ২০০৮ সালের ব্রডব্যান্ড গাইড লাইন্সের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন যুক্তি দিয়ে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।

এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুপুরে বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে দেয়। সেই সঙ্গে বিটিআরসির ওই বিজ্ঞপ্তি কেন ২০০৮ সালের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২, ৪.০৬ (৩) দফা এবং ২০১৭ সালের ফোরজি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিটিআরসি, বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং ডিভিশনের মহা-পরিচালক, পরিচালক ও বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম ডিভিশনের পারিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়।

ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ৪.০২ নীতিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি তিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি এক প্রতিষ্ঠানকে ফোরজি লাইসেন্স দেয়া যাবে।

আবার ৪.৬ (৩) নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটর এ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে না। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী রমজান আলী শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিটিআরসি ব্রডব্যান্ড নীতিমালার ওই দুই নীতি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে আরেকটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং তার ভিত্তিতে ফোরজি লাইসেন্সের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

‘ফলে ২০১৭ সালের ওই নীতিমালা এবং গত ৪ ডিসেম্বর দেয়া বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে এই রিট করা হয়। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দিয়েছে আদালত।’

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ দুপুরেই চেম্বার আদালতে যায়। শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

এমআরএম/আইআই