‘জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না কোরআনের কোথায় আছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৫৬ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮

মাদরাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না এটি কোরআন শরীফের কোথায় আছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিষয়ে দায়ের করা রিটকারী আইনজীবীর প্রতি এমন প্রশ্ন করেছেন আদালত।

দেশের মাদরাসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ সময় আদালত রিটকারী আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনি দেখান পবিত্র কোরআনের কোথায় আছে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না? পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই যে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না। অদালত আরও বলেন, আগে তো মাদরাসার সিলেবাসে অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত ছিল না। যুগের চাহিদায় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকারন্তরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার জন্যই এ রিট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আদালত।

আদালত বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত গাইবে আর মাদরাসায় গাইবে না, এটা হতে পারে না। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গেলে যখন বিদেশিরা জাতীয় সংগীতের বিষয় জানতে চাইবেন তখন তারা কী জবাব দিবে বলে প্রশ্ন রাখেন আদালত।

রিটকারী আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে আদালত বলেন, ব্রিটিশ আমলে আমরা ইংরেজি না শিখে পিছিয়ে পড়েছিলাম। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিতে এ ধরনের রিট করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের সুখদেব ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিয়া ও ঢাকার কদমতলা মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ রিট করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানির সময় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/এএইচ/আরআইপি