জাহালম কাণ্ড : দুদকের সিদ্ধান্তের তথ্য চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৯

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করেন পাটকল শ্রমিক টাঙ্গাইলের জাহালম। ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জাহালম ও আবু সালেকের দুটি ছবি আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন আদালত।

জাহালমকে আসামি করার পেছনে দুদক ও বিভিন্ন ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তারা যেন চাকরির টাকা-পয়সা নিয়ে পালাতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ব্যাংক থেকে নেয়া টাকা কোথায় গেল- এমন প্রশ্ন তুলে সে তথ্যও জানতে চান আদালত।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে- তাও জানাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদেশের আগে দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। পরে দুদককে এ বিষয়ে গ্রহণ করা পদক্ষেপ জানাতে বলেছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এসব আদেশ ও নির্দেশনা দেন।

আদালতে এদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন।

শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করার পেছনে দুদক ও বিভিন্ন ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তারা যেন চাকরির টাকা-পয়সা নিয়ে পালাতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি করতে। একই সঙ্গে, দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে- তাও জানাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১১ জুলাই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি না করে দুদকের আইনজীবী সময় আবেদন করলে আদালত আজ (মঙ্গলবার) শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ওইদিন (১১ জুলাই) দুদকের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে হলফনামা আকারে জমা দেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

প্রতিবেদনে তদন্তকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে যে, জাহালমকে আবু সালেক রূপে চিহ্নিত করার জন্য যে ভুলটি হয়েছে তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। তবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করেছেন ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয় দানকারীরা।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের করা ৩৩ মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করেন টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালম। ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের পর এক আইনজীবী বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের মামলা (৩৩ মামলা) থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে সেদিনই মুক্তির নির্দেশ দেন। ওইদিন রাতেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

এদিকে জাহালমের ঘটনায় দুদকের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক (লিগ্যাল) আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক। পরে তার সঙ্গে আরও একজন পরিচালককে সংযুক্ত করা হয়।

গত ৯ জুলাই (মঙ্গলবার) দুদকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি এফিডেভিট দাখিল করে দুদক দাবি করে, জাহালমের ঘটনায় তাদের দায় নেই। অথচ আদালতে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার ভুল হয়েছে।

এফএইচ/আরএস/এমএআর/পিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :