কুড়িগ্রামের ঘটনায় রিটের বিষয়ে হাইকোর্টের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ১৬ মার্চ ২০২০

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ধরে নিয়ে মধ্যরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিট আবেদনের ওপর আজ সোমবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের কপি এবং সাংবাদিক রিগ্যানের বিরুদ্ধে অভিযানসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও নথি চেয়েছেন আদালত।

ওই সব তথ্য আজ দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষকে। আদালত বলেছেন, এখন ডিজিটাল যুগ। অনুলিপি দিতে না পারলেও মূল কপি স্ক্যান করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তেই সব পাঠানো সম্ভব।

জনস্বার্থে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশিদের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন।

অভিযান পরিচালনার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য।

একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ৪০ জন লোক নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশাল ব্যাপার। মনে হয় যেন দেশের সেরা সন্ত্রাসীকে ধরতে গেছে। একজন সাংবাদিকের বাড়িতে এত লোক নিয়ে গেছে? এত বড় অভিযান? নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল। তাই সে অভিযানে কী অর্জিত হয়েছে তা জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে আজকের (সোমবার) মধ্যে রায়ের কপি, সাজা মোবাইল কোর্ট না টাস্কফোর্স দিয়েছে, মধ্যরাতে এভাবে কারও বাসায় যাওয়ার এখতিয়ার আছে কি না প্রভৃতি তথ্য জমা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বা টাস্কফোর্সকে কে অভিযোগ দিয়েছে, সেটির কোনো লিখিত আছে কি না তাও জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

ওই রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৭ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়। এছাড়া রিটে টার্স্টফোর্সের নামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজা এবং জেল প্রদান কেন অবৈধ হবেনা, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

রিটে টাস্কফোর্সের নামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজা সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নীতিমালা তৈরীতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবেনা, রিটে সে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পরভীন, কুড়িগ্রামের সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার নিজাম উদ্দিন এবং কুড়িগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমাকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে সাজাপ্রদানের বিষয়ে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে তলব, আরিফুল ইসরামকে সাজা দেওয়া ভ্রাম্যমান আদালত মামলার নথি (০৬/২০২০) ও টার্স্কফোর্স পরিচালনার নথি তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে ফৌজদারী কার্যবিধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৫ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে। তার বাসা থেকে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই সাংবাদিককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। রোববার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তাকে আবার জামিন দেয়া হয়।

এফএইচ/এনএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।