শীতে শিশুর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি কেন বাড়ে? কী করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে শীতকাল মানেই শিশুদের জন্য নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। সংবাদে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর শিশু এ দুটি রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এমনকি অভিভাবক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণ হারাচ্ছে অনেক শিশু। কিন্তু কেন?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে - কেন শীতের সময় এই রোগগুলো বেশি দেখা দেয়? এসময় কীভাবে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা যায়?

রোগের প্রকোপ কেন বেড়ে যায়, তা জানার আগে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া আসলে কী? নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণ, যেখানে ফুসফুসের কোনো অংশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীজনিত সংক্রমণে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এতে শ্বাসনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যার ফলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দ্রুত শ্বাস হয় এবং জ্বর হয়। এই রোগটি শিশুর জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে ছোট বয়সী শিশুর জন্য। কারণ এসময় শিশুদের ফুসফুস সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হয়না।

শীতে শিশুর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি কেন বাড়ে? কী করবেন

শীতে নিউমোনিয়া কেন বাড়ে?
শীতকালে বাতাস ঠান্ডা ও শুষ্ক থাকে। এই সময় শিশুর নাক–গলা এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে। আরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন—

>> ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় বাতাস চলাচল কমে যায়।

>> একই ঘরে অনেকজন থাকলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

>> বাতাসের শুষ্কতা এবং ঠাণ্ডায় শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসের সুরক্ষা কমে যায়।

>> বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের ফুসফুস এখনও পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি।

শীতে শিশুর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি কেন বাড়ে? কী করবেন

শীতে ডায়রিয়া কেন হয়?
অনেকের ধারণা, ডায়রিয়া গরমের রোগ, আসলে তা ঠিক নয়। শীতকালে রোটাভাইরাস নামে এক ধরনের ভাইরাস বেশি সক্রিয় হয়, যা ডায়রিয়ার বড় কারণ।

শীতে বড়দের হাত ধোয়ার অভ্যাস কমে যায়, ঠাণ্ডা পানিতে হাত পরিষ্কার করা হয় না, খাবার গরম না করে খাওয়া হয়, এবং বোতলের দুধও ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না — এসব সহজ ছোট ভুল থেকেও সংক্রমণ হয়। আর ডায়রিয়া শিশুর জন্য বেশি মারাত্মক হওয়ার কারণ – শিশুর শরীর সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

লক্ষণ দেখে সতর্ক থাকুন

নিউমোনিয়ার লক্ষণ: শ্বাস নিতে কষ্ট, দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া, জ্বর, খাওয়া-দাওয়া কমে যাওয়া।
ডায়রিয়ার লক্ষণ: ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, পানিশূন্যতা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া ইত্যাদি।
কিভাবে শিশুকে রক্ষা করবেন?

শীতে শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় চাপানোই যথেষ্ট নয়, স্মার্ট কেয়ার দরকার।

>> শিশুকে ঠাণ্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখুন, তবে ঘরের বাতাস যেন ভালোভাবে চলাচল করে সেদিকে খেয়ার রাখুন।

>> হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাবার দেওয়ার আগে ও টয়লেটের পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।

>> খাবার ও পানি ভালোভাবে গরম করে দিন।

>> শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান, এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক সুরক্ষা।

>> শিশুকে সময়মতো টিকা দিন।

শীত নিজে কোনো রোগ নয়, কিন্তু অবহেলা করলে শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটু সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্ন অভ্যাসই পারে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে।

সূত্র: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক রিসার্চ, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নেফ্রোলজি

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।