ঘন ঘন আঙুল ফোটালে হাতে কী হতে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৮ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

অনেকেরই কথার ফাঁকে, কাজের মাঝে বা অবসরে আঙুল ফোটানোর অভ্যাস । দুই আঙুলের চাপে যে পরিচিত ‘ফটফট’ শব্দ শোনা যায়, তা অনেকেই অজান্তেই স্বস্তি পাওয়ার জন্য করে থাকেন। তবে এই অভ্যাস ঘিরে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ মনে করেন, হাতের সংযোগস্থল বা জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কেউ বলেন দুই হাড়ের ঘর্ষণেই শব্দ হয়।

আঙুল ফোটানোর অভ্যাস নিয়ে কয়েক দশক ধরেই এমন আশঙ্কার কথা শোনা গেলেও, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গবেষণা করে দেখিয়েছেন, শব্দ হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পূর্ণ আলাদা।

ফ্লোরিডার অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড আব্বাসি সম্প্রতি জানিয়েছেন, শব্দটি হাড়ের সঙ্গে হাড়ের সংঘর্ষের কারণে তৈরি হয় না। গাঁটের ভেতরে একটি বিশেষ তরল থাকে, যাকে সিনোভিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এই তরলের মধ্যে গ্যাস থাকে। হঠাৎ আঙুল টানলে বা চাপ দিলে তরলের ভেতরে চাপের পরিবর্তন হয়। ছোট গ্যাসের বুদ্বুদ তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে যায়। এই ভাঙার সময়ই পরিচিত ফটফট শব্দ শোনা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, আঙুল বা পায়ের আঙুল ফোটানোর সময় শব্দের উৎস হাড়ের ঘর্ষণ নয়, বরং এই বুদ্বুদের ভাঙা কারণে হয়। ২০১৫ সালের গবেষণায় রিয়েল-টাইম এমআরআই ব্যবহার করে দেখা গেছে, যখন হাড়ের সন্ধিস্থল প্রসারিত হয়, তখন এই বুদ্বুদ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন।

ঘন ঘন আঙুল ফোটালে হাতে কী হতে পারে

তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, নিয়মিত আঙুল ফোটানোর ফলে হাত মোটা হয় না, তরুণাস্থি পাতলা হয় না বা আর্থ্রাইটিস হয় না। তবে অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। গাঁটের চারপাশের নরম টিস্যু দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং হাতে ধরার শক্তি কিছুটা কমে যেতে পারে। বারবার জোরে টান দিলে অস্বস্তি বা হালকা ব্যথাও দেখা দিতে পারে।

আঙুল ফোটানোর আওয়াজ স্বাভাবিক এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে অতিরিক্ত বা জোরে করার অভ্যাস থেকে বিরত থাকলে হাত ও গাঁটের স্বাভাবিক কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
শীতে গোসলে যে ভুল করলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক
খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি, সতর্কতা জরুরি

এসএকেওয়াই/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।