সারাদিন বাসায় সন্তানের দেখাশোনা করার চাপ বাইরের কাজ থেকে কম নয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ০২ মার্চ ২০২৬

ভোর থেকে রাত - সন্তানের খাবার, গোসল, স্কুল, পড়ালেখা, নিরাপত্তা, আবেগ সামলানো - যেন ২৪ ঘণ্টার এক দায়িত্ব। সন্তানের প্রতি অপার ভালোবাসা থাকলেও বাসায় থেকে এই দায়িত্ব পোলন করা মোটেও সহজ কাজ নয়।

শরীরের স্ট্রেস সিস্টেম যা বলে

স্ট্রেস হলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বাড়ে। স্বল্পমেয়াদে এটি সহায়ক - সতর্ক রাখে, দ্রুত সিদ্ধান্তে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘসময় বিরামহীন দায়িত্বে থাকলে এই সিস্টেম অতিসক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুম, মনোযোগ ও মেজাজে প্রভাব ফেলে। আবার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের গবেষণায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না থাকলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।

সারাদিন বাসায় সন্তানের দেখাশোনা করার চাপ বাইরের কাজ থেকে কম নয়

সারাদিন অন থাকা কেন এত ক্লান্তিকর?

শিশুর যত্নে প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নিরাপত্তা নজরদারি, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য, কাজের ফাঁকে বারবার বাধা - মস্তিষ্ক একটানা সতর্ক থাকে। এই অবস্থা উচ্চ চাপের কাজের সঙ্গে তুলনা করা যায়, বিশেষ করে যখন পারিবারিক সহায়তা কম থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘস্থায়ী চাপকে জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে দেখেছে; কারণ, এটি উদ্বেগ, অবসাদ ও শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।

দুর্বলতা নাকি স্নায়ুতন্ত্রের ওভারলোড?

অনেক মা নিজের ক্লান্তিকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা ভাবেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, বিরামহীন দায়িত্বে স্নায়ুতন্ত্র কোনো বিশ্রাম না পেলে অস্থিরতা, দ্রুত রাগ, মাথা ভার – এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত রিল্যাক্সেশন ও ঘুমের ঘাটতি পূরণ না হলে স্ট্রেসের শারীরিক উপসর্গ বাড়ে।

সারাদিন বাসায় সন্তানের দেখাশোনা করার চাপ বাইরের কাজ থেকে কম নয়

তাহলে কী করবেন?

শেয়ারড কেয়ারগিভিং: সম্ভব হলে সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিন।

মাইক্রো-বিরতি: ৫–১০ মিনিট নীরব শ্বাস-প্রশ্বাস, হালকা হাঁটা - ছোট বিরতিও সিস্টেমকে শান্ত করে।

ঘুম অগ্রাধিকার: টুকরো টুকরো ঘুমও সহায়ক।

সহায়তা চাইতে লজ্জা নয়: বন্ধুবান্ধব বা ভালো একটি সাপোর্ট সিস্টেম বড় পার্থক্য আনতে পারে।

মা অলস নয়, তিনি ক্লান্ত। বিশ্রাম, সহায়তা ও ভাগাভাগি দায়িত্ব না থাকলে চাপ বাড়ে। তাই নিজের যত্ন নেওয়াও দায়িত্বের অংশ - এটি বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।