পছন্দের প্রার্থী হেরে গেলে কি আপনিও হেরে যাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনটা অনেকের জন্য উৎসবের, আবার অনেকের জন্য হতাশার। যাকে বিশ্বাস করেছেন, যাকে ভোট দিয়েছেন - তিনি হেরে গেলে মনে হতে পারে, ব্যক্তিগতভাবে আপনিও যেন হেরে গেলেন।

রাগ, ক্ষোভ, হতাশা - সব মিলিয়ে মন অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু একটি প্রশ্ন ভাবা দরকার, একজন প্রার্থীর পরাজয় কি আপনার মূল্যবোধ বা নাগরিক অধিকারকে হারিয়ে দেয়?

রাজনৈতিক পরিচয় অনেক সময় আমাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়। তাই পছন্দের প্রার্থীর হার মানসিকভাবে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ মনে হতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ, রাগ ও হতাশার মাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু এই আবেগগুলো স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা তা কীভাবে সামলাই।

রাগের মুহূর্তে মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়। সামাজিক মাধ্যমে তর্ক, অপমানজনক ভাষা, এমনকি সহিংস আচরণ - এসবই তখন ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে মনে হতে পারে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করিয়ে দেয়, দীর্ঘস্থায়ী রাগ ও শত্রুতাপূর্ণ আচরণ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি - এসবই হতে পারে অতিরিক্ত ক্ষোভের ফল।

নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এখানে জয়-পরাজয় থাকবে। একটি ভোট মানে মতামত প্রকাশের অধিকার। আপনি ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ফল যাই হোক, সেই দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। একটি নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত সত্য নয়; ভবিষ্যতে আবার সুযোগ আসবে। তাই ফলাফলকে ব্যক্তিগত আত্মসম্মানের সঙ্গে না জড়িয়ে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা জরুরি।

মনোবিদরা বলেন, ফলাফল নিয়ে তীব্র আবেগ তৈরি হলে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে পারেন। প্রথমত, বিরতি নিন। ফল ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকুন। দ্বিতীয়ত, নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে স্বীকার করুন। হতাশ লাগছে, রাগ হচ্ছে - এটি স্বাভাবিক। তৃতীয়ত, আলোচনা করুন কিন্তু বিতর্কে জড়িয়ে নয়; বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো - সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে। একটি দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যক্তিগত রাগের বহিঃপ্রকাশ যদি সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেয়, তার দায় সবার ওপরই পড়ে।

ভোট মানে মতের পার্থক্য। মতের ভিন্নতা মানেই শত্রুতা নয়। একজন প্রার্থী হারলে গণতন্ত্র হারেনি। বরং শান্তিপূর্ণভাবে ফল মেনে নেওয়া গণতন্ত্রের পরিপক্বতার প্রমাণ। নিজের পছন্দের প্রার্থী হারলে নিজেকে প্রশ্ন করুন - আমি কি একজন প্রার্থীর সমর্থক, নাকি একটি দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক?

গণতন্ত্রে অংশ নেওয়াই আসল জয়। তাই ফল যাই হোক, সহনশীলতা, সংযম ও আইন মেনে চলার মধ্যেই নাগরিক শক্তি।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এএমপি/এমএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।