বাকৃবিতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই হলে চুরি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি আবাসিক হলে পৃথক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের চারতলার দুটি কক্ষের জানালার দুটি স্টিলের শিক কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে মূল্যবান মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের একটি কক্ষের সিলিং ভেঙে ভেতরে ঢোকে চোর। রিডিং রুম থেকে ফেরা এক ছাত্রী জানালা দিয়ে চোরকে দেখে চিৎকার করলে সে সিলিংয়ের পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও চোর কীভাবে চার তলায় উঠে জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করলো, তা নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি প্রয়োজন। তারা বলেন, সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী মেজবাউল হক মিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে চারতলার মতো জায়গায় উঠে জানালার শিক কেটে চুরি করা সম্ভব হয়, সেখানে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণ কাজ চলমান। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আজকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এ কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, হলের চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা কক্ষে থাকা অবস্থাতেই জানালা কেটে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা কিছুটা অস্বাভাবিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের কোনো প্রকার অবহেলা ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, হলগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও সার্বিক নজরদারির স্বার্থে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা শাখা সর্বদা তৎপর রয়েছে। ফজিলাতুন্নেছা হলের চুরির ঘটনার পরপরই প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং চুরির কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশাল এই ক্যাম্পাসে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা। চোরেরা এ সুযোগ নিয়ে অন্ধকার ও আড়ালে থাকা সীমানাগুলোকে টার্গেট করছে।
এদিকে হলের ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, আমরা হলগুলোর প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। হলের ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত প্রভোস্টের এখতিয়ারে পড়ে। সেখানে সিসি ক্যামেরার কভারেজও সম্ভবত নেই। তাই সেই দিকগুলোতে আমাদের নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, হলের শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্বে প্রক্টরিয়াল বডি, নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা শাখা, অনুষদগুলোতে ডিন এবং হলগুলোতে প্রভোস্টের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সবকটি পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন।
কেএইচকে/এমএস