দাঁড়িয়ে রান্নার সময় কোমর-হাঁটু ব্যথা, বাঁচার সহজ উপায় জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
ছবি: এআই

রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে পিঠ, কোমর ও হাঁটুর ব্যথায় ভোগেন অনেকেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রান্না, সবজি কাটা, বাসন গুছানো কিংবা মসলা বাটার মতো কাজের চাপ শরীরের ওপর ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

বিশেষ করে যারা প্রতিদিন পরিবারের জন্য রান্না করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। অনেক সময় ব্যথা এতটাই বাড়ে যে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু আধুনিক ও সহজ কৌশল অনুসরণ করলে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বসে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

রান্নাঘরে সব সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার প্রয়োজন নেই। কাউন্টারটপের উচ্চতা অনুযায়ী একটি উঁচু টুলের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। এতে সবজি কাটা, মাছ পরিষ্কার করা বা মসলা বাটার মতো কাজ বসে বসেই করা যায়। এতে কোমর ও পিঠের ওপর চাপ কম পড়ে। তবে টুল ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেটির উচ্চতা যেন এমন হয় যাতে শরীর খুব বেশি নিচু বা বাঁকা না করতে হয়। ভুল উচ্চতার টুল ব্যবহার করলে উল্টো ব্যথা আরও বাড়তে পারে।

jago

ছোট রান্নাঘরের জন্য ভাঁজ করা চেয়ার

যাদের রান্নাঘর ছোট, তাদের জন্য দেয়ালে লাগানো ভাঁজ করা চেয়ার খুবই কার্যকর হতে পারে। প্রয়োজনের সময় চেয়ার খুলে বসে কাজ করা যায় এবং কাজ শেষে আবার গুটিয়ে রাখা যায়। এতে জায়গাও বাঁচে, আবার শরীরও বিশ্রাম পায়। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি বা হাঁটুর সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এটি অনেক আরামদায়ক একটি ব্যবস্থা।

রান্নাঘরের ডিজাইনে আনুন পরিবর্তন

নতুন রান্নাঘর তৈরি বা সংস্কারের সময় অনেকেই শুধু সৌন্দর্যের কথা ভাবেন। কিন্তু আরামদায়ক ডিজাইনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে একটি নিচু কাউন্টারটপ থাকলে বসে কাজ করা সহজ হয়। এতে মেরুদণ্ড ও হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যে ব্যথা তৈরি হয়, সেটিও অনেকাংশে কমে যায়।

jago

সব জিনিস হাতের কাছে রাখুন

রান্নার সময় বারবার নিচু হওয়া বা দূরে গিয়ে জিনিস আনা শরীরের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই রান্না শুরু করার আগেই প্রয়োজনীয় মসলা, হাঁড়ি-পাতিল, সবজি ও অন্যান্য উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা ভালো। এতে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং শরীরও কম ক্লান্ত হয়। রান্নাঘর গোছানো থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমে যায়।

jago

অ্যান্টি-ফ্যাটিগ ম্যাট ব্যবহার করুন

বর্তমানে রান্নাঘরের জন্য বিশেষ ধরনের ‘অ্যান্টি-ফ্যাটিগ ম্যাট’ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ম্যাট শক্ত মেঝের কারণে পায়ে যে চাপ পড়ে, তা অনেকটা কমিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও পায়ের তলা, গোড়ালি বা হাঁটুতে ব্যথা কম অনুভূত হয়। যারা প্রতিদিন অনেকক্ষণ রান্নাঘরে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি খুব উপকারী হতে পারে।

কাজের ফাঁকে বিরতি নিন

অনেকেই একটানা দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাজ করেন। কিন্তু শরীর সুস্থ রাখতে মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি। কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিলে পেশি ও হাড়ের ওপর চাপ কমে যায়। প্রয়োজনে হালকা স্ট্রেচিংও করা যেতে পারে। এতে শরীরের জড়তা কমে এবং ব্যথার ঝুঁকি কম হয়।

রান্নাঘর হোক আরামের জায়গা

রান্নাঘর শুধু রান্নার জায়গা নয়, এটি পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই জায়গাটি এমন হওয়া উচিত যেখানে কাজ করতে গিয়ে শরীরের ক্ষতি না হয়। আধুনিক কিছু ছোট পরিবর্তন ও স্মার্ট কৌশল আপনার রান্নাঘরকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

প্রযুক্তি ও সঠিক অভ্যাসের মেলবন্ধনে রান্নাঘরের কাজ এখন অনেক সহজ হয়ে উঠছে। তাই পিঠ বা কোমরের ব্যথাকে অবহেলা না করে আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন।

সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য স্প্রুস , ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।