জমজমাট ঈদের পাইকারি বাজার, খুচরা ব্যবসায়ীদের যা জানা জরুরি
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে সাত রোজা। এরই মধ্যে সবাই শুরু করেছেন ঈদের কেনাকাটা। সেই ছোয়া লেগেছে রাজধানীর কোলাহল পেরিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা কেরানীগঞ্জ পোষাকপল্লিতে। সরু গলি, সারি সারি গুদামঘর আর শোরুমে নতুন কাপড়ের গন্ধ সব মিলিয়ে ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনায় সরগরম এই পোষাকপল্লি। এই ব্যস্ততা চলে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।
রাজধানী ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন এই পাইকারি মার্কেটগুলোতে। এখান থেকে নিয়ে তারা বিক্রি করছেন দোকানে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবেবরাতের পর থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের প্রস্তুতি। এখন বাজার প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে রোজার দশ তারিখ পার হলেই কেনাবেচা আরও বাড়বে।
কেন কেরানীগঞ্জই ভরসা?
কেরানীগঞ্জ পোষাকপল্লি মূলত পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে অন্য সব জায়গা থেকে পোশাক তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। শিশুদের জামা, নারীদের থ্রি–পিস, গাউন, কুর্তি, পুরুষদের পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে ট্রেন্ডি টি–শার্ট সবকিছুরই বৈচিত্র্য আছে এই কেরানীগঞ্জ পোষাকপল্লিতে।
তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা হলো-
- এক জায়গায় বহু কারখানা ও সরবরাহকারীর উপস্থিতি
- দরদাম করে কেনার সুযোগ
- একই ডিজাইনের বড় পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের সুবিধা
- নতুন ট্রেন্ড দ্রুত পাওয়া
- ঈদ বাজারের সময়রেখা
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে শবেবরাতের পর থেকেই পাইকারি অর্ডার শুরু হয়। রমজানের প্রথম দশ দিনে মূল স্টক তোলা ও দ্বিতীয় দশকে পুনরায় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহ। শেষ দশকে ঘাটতি পূরণ ও জনপ্রিয় ডিজাইন পুনরায় আনা সবই সহজে হয় এখানে।
অনেকে মনে করেন, প্রথম দফায় কম দামে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায়। তবে মাঝামাঝি সময়ে বাজারের চাহিদা বোঝা সহজ হয়, ফলে কোন ডিজাইন বেশি চলছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু পরামর্শ
- আগে বাজার ঘুরে দেখুন। এক দোকান থেকেই সব কিনে না নিয়ে কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দাম ও মান তুলনা করুন।
- ট্রেন্ড বুঝে কিনুন পণ্য কিনুন। এ বছর কোন রঙ, কোন কাটিং বা কোন কাপড় বেশি চলছে তা আগে জেনে নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর রাখুন।
- মান যাচাই করুন সবচেয়ে জরুরি। কাপড়ের সেলাই, কাপড়ের মান ও রঙ স্থায়িত্ব পরীক্ষা না করে বড় অর্ডার দেবেন না।
- হিসাব করে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করুন। সব পুঁজিই এক ডিজাইনে বিনিয়োগ না করে বৈচিত্র্য রাখুন। এতে ঝুঁকি কমবে।
- পরিবহন ও সংরক্ষণ পরিকল্পনা রাখুন। ঈদের আগে পরিবহন ব্যস্ত থাকে। তাই আগেভাগে পরিবহনের ব্যবস্থা ও নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
ঈদকেন্দ্রিক এই বেচাকেনা শুধু ব্যবসায়ী নয়, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, প্যাকেজিং কর্মী সবার জন্যই আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করে। ছোট কারখানাগুলোও এই সময়ে অতিরিক্ত অর্ডার পেয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যেরও সময়।
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা
খুচরা ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দশ রোজার পর বাজারে আরও গতি আসবে। অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে খুচরা ব্যবসায়ীরাও ভালো লাভ করতে পারেন।
বুড়িগঙ্গার তীরের এই পোষাকপল্লি তাই শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি এক ধরনের মৌসুমি অর্থনৈতিক কেন্দ্র, যেখানে ঈদের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো মানুষের জীবিকা। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার–বোঝাপড়া থাকলে এখান থেকেই সফল ব্যবসার পথ তৈরি করা সম্ভব।
জেএস/