রোজা বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কী মস্তিষ্কে পরিবর্তন আনতে পারে

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ এএম, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

রোজায় আমাদের অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। এছাড়া ওজন কমানো, রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীর সুস্থ রাখতে বর্তমানে অনেকেই নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস করছেন, যাকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বলা হয়। তবে প্রশ্ন হলো-খালি পেটে থাকা কি সত্যিই মস্তিষ্কের জন্য ভালো?

সাম্প্রতিক কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সঠিকভাবে ও সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে তা শুধু শরীরের ওপরই নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে
সাধারণত আমরা যখন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে থাকি, তখন শরীরে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যেতে থাকে। তখন শরীর শক্তির উৎস হিসেবে চর্বি পোড়াতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় কিটোন বডি নামের কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়।

এই কিটোনগুলোর মধ্যে একটি হলো বিটা-হাইড্রক্সি বিউটাইরেট , যা মস্তিষ্কের জন্য একটি কার্যকর জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি শুধু শক্তি সরবরাহই করে না, বরং মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখতেও সহায়তা করে।

যখন মস্তিষ্ক গ্লুকোজের বদলে কিটোন থেকে শক্তি নিতে শুরু করে, তখন অনেক মানুষ বেশি মনোযোগ, পরিষ্কার চিন্তাভাবনা এবং কম ক্লান্তি অনুভব করেন। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনকে মেটাবলিক সুইচ বলে থাকেন।

fghy

মস্তিষ্ক নিজেকে পরিষ্কার করে
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অটোফ্যাজি নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হওয়া। অটোফ্যাজির অর্থ হলো কোষের স্ব-পরিষ্কার। এই সময় শরীরের কোষগুলো জমে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান সরিয়ে ফেলতে শুরু করে।

মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলঝাইমার বা পার্কিনসনের মতো কিছু নিউরোডিজেনারেটিভ রোগে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন জমে থাকতে দেখা যায়। যদিও মানুষের ওপর আরো বড় পরিসরে গবেষণা দরকার, তবুও প্রাথমিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে অটোফ্যাজি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিষ্কার চিন্তাভাবনা করা
যখন মস্তিষ্ক কিটোন ব্যবহার করে শক্তি পায়, তখন তা তুলনামূলকভাবে কম জারণ চাপ তৈরি করে। জারণ চাপকে বার্ধক্য ও মানসিক অবক্ষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়।

কিটোন থেকে পাওয়া শক্তি অনেক সময় বেশি স্থিতিশীল হয়, ফলে হঠাৎ ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি কম দেখা যায়। এ কারণেই অনেক মানুষ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সময় মানসিক স্বচ্ছতা, বেশি মনোযোগ এবং কম ব্রেইন ফগ অনুভব করেন।

মেটাবলিকের সঙ্গে সম্পর্ক
সময়-সীমাবদ্ধ খাবার গ্রহণ নিয়ে করা বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের প্রদাহ কমানো এবং মেটাবলিক উন্নত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তে অতিরিক্ত চিনি ও বিপাকীয় সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই পরিবর্তনগুলো পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।

কাদের বেশি সতর্ক থাকা উচিত
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে, যাদের খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা রয়েছে, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মা, বয়স্ক বা দুর্বল ব্যক্তি এবং যারা রক্তে চিনি কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।