দেওয়ান মাসুদ রহমানের তিনটি কবিতা
নীরালোর রহস্য
রাত নামে,
কিন্তু অন্ধকার নামে না—
নিরালো ছায়া আসে,
শুধু অনুভব করা যায়।
গাছ দাঁড়িয়ে,
পাতারা খেয়ে নিচ্ছে শিকড়;
তবু তার নাম ছায়ালতা—
কী বিষময় বিস্ময়!
নগর লোকেরা একে বলে
নতুন অভ্যাস।
নদী থেমে যায়।
জল তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে—
এটা কি প্রেম,
নাকি নিশিথের অপেক্ষা?
নাকি ধ্বংসের নগরে
মানুষ ঘুরে বেড়ায়
অসুস্থ কুকুরের মতো?
দূরে কুকুর ডাকে—ফুনালি।
শব্দ নয়,
বুক কেঁপে ওঠে।
হাওয়া নীরব,
তবু প্রশ্ন ফেলে যায়—
কোথায় হারিয়ে গেছে রাতের মুখ,
কোন ছায়া ধরে রেখেছে আলো?
আমি দাঁড়িয়ে থাকি
নামহীন অনুভূতির ভেতর।
এই দাঁড়িয়ে থাকাটারও
কোনো নাম নেই—
শুধু নিরালো।
****
জন্মদিনে, যে তুমি কবিতা
কবিতা ছুঁয়ে তুমি—
পৃথিবীর সব আড়ষ্টতা ভেঙে দাও,
শব্দের কাঁধে মাথা রেখে
তুমি হাঁটো দুপুরের দিকে।
ঘাসের বুকজুড়ে রোদ শুয়ে আছে,
পাখির পালক পড়ে থাকে—
যেন কোনো অদৃশ্য শব্দ
তোমার মুখের মায়াচিহ্ন এঁকে যায়।
রোদ মিশে যায় শীতে শীতে কুয়াশায়,
পাতার ঠোঁটে জমে থাকে নীরব উষ্ণতা,
দুপুর তোমার নামে রেখে যায়
মায়ার বেদনা।
তুমি কবিতা-খাতা,
কবিতারা এসে শব্দে গেঁথে যায়
তোমার বুকে আনমনে,
খাতা খুলে যায়—
যেমন রোদ চুমু খায়
তোমার ঠোঁটে।
দুপুরের রোদ তোমাকে ভালোবাসে,
চিলের বিষণ্ণ উড়ানও আজ উজ্জ্বল—
সুর-ডানা, সুর-সঙ্গম
চিলের ডানায় ভেসে আসে।
আজ তার জন্ম—
তোমার জন্মদিন।
আমি কবি নই,
তবু তোমার জন্মদিনে
কবিতারা আমাকে ডাকে
শব্দে, উপমায়—
তোমাকে বলার জন্য,
শুভ জন্মদিন,
হে আমার প্রেম, কবিতার মানুষ।
****
অর্কিডা ও অন্ধকার
পাথর চোখে তাকিয়ে আমি হাঁটবো, পাথর পথ—
নিঃশব্দ, তবু শুনি মনের গান।
রাতচর নেকড়েরা হেঁটে যায় রাজপথ,
ছায়ার আড়ালে শিকারি চোখ
নরম চাদের ঘুম ভাঙায়।
মনোভূমি ভরে ওঠে হরিণীর ছুটন্ত খুরের শব্দে,
ভয় আর সৌন্দর্যের অদ্ভুত মিশ্র স্বর।
সাপের চোখে আধার প্রেম—
বিষের ক্যাকটাসে কোমল ফুলের মতো,
অন্ধকারও কাউকে ভালোবাসে।
অর্কিডা জোনাক মালা গেঁথে সুখফুলে ডুবেছে,
রাতের গন্ধে মিশে গেছে নক্ষত্রেরা।
আকাশের গায়ে লেগে আছে নিয়ন বাতির ধুলো,
বিলবোর্ডের আলোয় ঝলসে ওঠে নিখোঁজ নাম।
আমি কেবল হাঁটি—
পাথর চোখে, তবু হৃদয় নরম রোদে জ্বলে।
এসইউ