যশোরের আঞ্চলিক কবিতা
নেদারাও বাইড়ি ওটে, শিকড় ধইরি
গোলাম রববানী
ছাইলিবিলিরা কত শিগগির বাইড়ি উটতেছে দেক্তি পাত্তিছি
এটা কিন্তু তাইগির জন্নি, তুমাগির জন্নি না
ঠাহর পাচ্চ না, তাই-না, বুদ্দি বিবেচনায় তাই কলে
তালি ক দিন ক্যান কবিতা পাট হয়, সংসদে
আল মাহমুদ, ছাইলিবিলিরাও দেহি দাপাদাপি করে
কবিতার জন্নি, কবিতাও ভুইলে যাতি পারে না কখনো,
কবিতার শিকড়, এভাবে কবিতা আগাতি থাকে,
পেচন ফেরে না, গতকালকিও দেখে না।
তুমাগির ছালিবিলি তুমাগির বেটাবিটি না
জীবনডাও নিজেগির মইদধি নিজেগির কামড় না
ই-রা হইলু গিয়ে তাইগিরই বাচ্চাকাচ্চা
ইরা তুমাগির মারফতে পয়দা হইচে, তুমাগির মইদধি একদমই না
বুচতি পাত্তেছি ওরা সাথে ভাতে পাতে
বেকায়দার কতা কি কব, ইগির বুজানোও যায় না
তুমরা তাইগির মানুষধানুষ কত্তি পার, যত্ন আব্বানও,
তাই বইলি তুমাগির ভাবনায় মাড়ায় কত্তি পার না
ক্যান কতিচি এসব কতা, চিন্তা কইরি দ্যাখ একটু
তাগিরও রোজ রোজ কত্ত বুদ্দিসুদ্দি বেরেন হইতিছে।
তুই তাইগির দেহখানকে সাজাইগুজাই দিতি পারিস
একবারও কী পারবি তা-গির আত্তাকে ভরাই দিতি?
তাগির রুহ পরান উড়ুউড়ু করে পরের বসতবাড়িতে
তুমরা চাইলিও সিখানে যাতি পারবা না
এম্নি এম্নি কতাগুলো কতিছিনে
তাগির দুনিয়া আর তুমাগির দুনিয়া স্বপ্নের মতন
তুমরা তা-গির চলনবলন আয়ত্ত কত্তি পার
পাগল-ছাগলের মতন তুমাগির চিন্তার মুর্খামি কত্তি পার না।
সময়ের মতন কিন্তু পরানডাও পিচনে ফিরি যায় না
যেসব দিন যাইবুরইছে ও ওর জন্নি আর বইসি থাকবে না
তুমরা হৈতিচাও বন্দুকের গুলি, আর তুমাগির
ছেলিমেয়িরা হইল গিয়ে রকেটবেগের গতি।
জনম জনম ছুট্টি থাকে সামনের গুলিবিদ্ধ জায়গা-ঠায়গাতে
তুমরা হইলে গিয়ে এর গুলি, এর মদধি জুইড়ে থাক
মৃদু হাইসে আর খিলখিল হাসির ক্ষণ হতি পারে
তুমরা যে কেবল বাইর হ গুলিকে যত্ন আত্তি করবা এরাম কোনো বিষয় না
আপ্নাগির কঠিন বন্দুককে ওরা যত্নাত্তিও করবেন
খুউব দরদ দিয়ে, এটা কিন্তু ভুইলে তাইগিরও
সারাজীবন একরত্তিও চলবে না।
এরচাইয়ে ভালো কইরে আমি আর কইত পারিনে
এখনকার ছাইলিবিলি বড় বালপাকা গোছের
মইমরুব্বিগিরে গুনতির মদধি রাকে না
তা-ই বৈলি এটা ভুইলে গেলিও কিন্তু কাজ হবে না
শিকড়ের টান থা লাগবে, শিকড়কে ভুললি
পশুপাকিদের আর ইগের কোনো ব্যবধান থাকে না
তবে এ কতা ক’যায় নেদারাও বাইড়ি ওটে, শিকড় ধইরি...
এসইউ