মর্তুজা হাসান সৈকতের দুটি কবিতা
নীল নিয়তি
তোমার-আমার দশ বছর বয়সী সংসারটা যখন ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে—
বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার সাড়ে সাত বছর বয়সী পুত্রের ডাক অগ্রাহ্য করে
হেঁটে যাই মনোবেদনার নিশীথ-নির্জন গোরস্তানের দিকে!
তুমি তখন প্রশ্নে ভরা একটি স্বাতী-নক্ষত্র
তোমার চোখের ভেতর অরুন্ধতীর মতো জ্বলে—
অতীতের অদেখা কোনো পূর্বপুরুষের আলো।
আমি ভাবি—এই যে ক্রোধের আগুনমুখা আমাদের শরীরে গোপনে বয়ে যায়
তার ঢেউ কি একদিন তোমার কণ্ঠে সংগীত হবে?
অসুখের দেশ থেকে উল্টো হাওয়ার মতো কোনো কোনোদিন—
তোমার বাড়ির সাদা রঙের বেড়ালটি রাতে আমার স্বপ্নে আসে
তার চোখের খাদে দেখি অনাগত বিপদ
তবু হঠাৎ কখনো কখনো তোমার নিঃশ্বাসের উষ্ণতায়—
সব অন্ধকার ধীরে ধীরে গলে যায়
অলৌকিক সাম্পানে ভাসাই ভেলা হঠাৎ খেয়ালে!
মধ্যরাতের নির্জনতায় সংসার আর শূন্যতার গল্পগুলো ভাবতে ভাবতে
হেমন্তের পাতারা ঝরে পড়ে আমার উঠোনে—
কাক ডাকা ভোরে সেসব কুড়াতে গিয়ে
আমার পুত্র-কন্যার সকরুণ কণ্ঠের আহ্বান মনে পড়ে!
আগুন রঙের এই দিনগুলোতে আমি দাঁড়াই আমার পাশে
জাগতিক আনন্দের অভিসারেও—
বিদ্যুৎবহ্নি বেদনা আমার বুকপকেটে ঘুমায়!
গল্পটা এ সময়ে ফুঁড়িয়ে যেতে থাকে পথের বাঁকে
...আচ্ছা, শিমুল ফুটেই কী ঝরে পড়ে, শুকায় রক্তরংও?
ভাবতেই অনুভব হয়—একদিন আমিও হবো শুকনো পাতার শব্দ
গোরস্তানের হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া ধুলোর মতো।
এভাবেই শোক শোক দাগের দিনগুলো ঢেকে থাকে অকারণ ক্রোধে
বিকেলের ছায়া দীর্ঘ হয়, দীর্ঘ হতে হতে—
পৌঁছে যায় তোমার দ্রাঘিমা ও দিগন্তে
আর শব্দহীন আমি শীতের বাতাসে ভেসে থাকা ভ্রমর হয়ে
আমার সন্তানদের চারপাশে অদৃশ্য মমতায় ঘুরতে থাকি।
ঘুরতে ঘুরতে মৃত্যুর হাতে তুলে দিই আমার জীবন্ত লাশকে!
****
জীবন কাহাকে বলে!
সূর্যকে ছোঁয়ার স্বপ্নে চাঁদ ঘুরছে চক্রাকারে
আমার একশ রাত নির্ঘুম কেটে গেছে তোমার কথা ভেবে
রুপালি দিনের পাখিরা কয়ে যায় কথা—
আমার তোমার কাছে ফেরার ব্যাকুলতা!
আগুন বুকে কীভাবে ঘুমাও—ইয়াসমিন?
এই যে ঘর-দোর ফেলে হয়েছো উধাও—
তুমিও কি পুড়ছো না অপেক্ষার আগুনে?
আমাকে পরীক্ষা করার আরও উপায় ছিল অজস্র
কিন্তু তুমি ছুড়লে বুক বরাবর অব্যর্থ তীর!
এসইউ