কিশোর স্মৃতি

এ কে সরকার শাওন
এ কে সরকার শাওন এ কে সরকার শাওন , কবি
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

বাবার কাঁধে দোল খেতে খেতে
কুমিল্লা থেকে বরিশাল,
শস্য-শ্যামল বিস্তৃত জল,
নদী-বিল খাল আর খাল।

সুগন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি আর
বিষখালী নদীর পাড়ে,
প্রিয় ঝালকাঠির স্মৃতিতে আজও
মন আছে ভরে!

স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতাম
স্কুলের ও দলের একাদশে!
সেরা খেলোয়াড় স্বপন কাকু,
শেখাতেন ভালোবেসে!

খাল কাটতে গিয়েছিলাম দূরে
ছাত্র শিক্ষক মিলে,
কিশোর আমিও খাল কেটেছি,
ধানসিঁড়ি নদীর কোলে!

তুলাপট্টির খোকন রুপম
কাপড়িয়া পট্টির নান্না খোকন,
কাঠপট্টির গৌতম নট্ট,
গোপাল আর প্রিয় ইকবাল;
কাসাপট্টির বিপুল গৌতম
সাহাপট্টির রহিম বাচ্চু
আর বনিক নিতাই শ্যামলাল!

আরও কত বাল্যবন্ধু,
ছুটছে তো ছুটছে জনে জনে;
কে কোথায় আছে বিধাতা জানে;
সবাইকে খুব পড়ে মনে।

বন্ধু ইউনুস হারিয়ে গেল
নদীর স্রোতের তোড়ে!
তাঁর হাসির ঝিলিক আজও,
তীর হয়ে বিঁধে অন্তরে!

ভরদুপুরে দলবেঁধে নাইতে নামা,
প্রমত্তা বিষখালীর ডাকঘাটার ঘাটে!
নৌকায় চড়ে হাওয়া হয়ে যাওয়া
বাসন্ডা ও নবদ্বীপের হাটে!

মুকুন্দ স্যারের বেতের বারি,
হাই বেঞ্চে জিভ বের করে,
দাঁড়িয়ে সং সাজা কান ধরে,
কাঠপট্টির বিশাল চরে!
নদীর পাড়ে আমরা সবাই রাজা!

স্কুল ফাঁকি দিয়ে কত কী খেতাম,
নোনতা বিস্কুট চানাচুর ভাজা,
কাউফল ডাব তরতাজা;
আর প্রিয় তিলের খাজা!

ঝালকাঠি পুড়ে ছাই হলো
একাত্তরের এপ্রিলে;
ইছানীল থেকে আমরা দেখলাম
চোখের নোনাজলে!

শীতলাখোল থেকে বাসন্ডা,
ডাকঘাটা থেকে স্টিমার ঘাট,
কত কথা মনে পড়ে।
গাজী রকেট আর অস্ট্রিচের
ভেঁপুর শব্দ ঠাঁই নিয়েছে
আমার মনের নীড়ে!

কত সুর কত গান কত স্মৃতি
হারানো দিনগুলো ঘিরে!
শৈশবের সেই সোনালি দিনগুলো;
ইস যদি আবার আসতো ফিরে!

দিনের পর দিন যায়,
স্মৃতির পরে স্মৃতি,
তবু আজও আগের মতই আছে
কিশোর বেলার স্মৃতি!

এসইউ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]