সাব্বির খানের চারটি কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২০

আদিখ্যেতায় আদিমতা

হোক সে গদ্য অথবা পদ্য,
যে লেখাতে ছন্দই নেই,
তাই বা কেন লিখতে হবে!
লিখলেই যদি; কড়া নেড়ে নেড়ে
তাই বা আবার পড়শীকে কেন
ঘুম ভাঙিয়ে জানাতে হবে!

কথোপকথন

আমাদের কালে ডাংগুলি ছিল,
মুড়ি-মুড়কি ঝালমুড়ি ছিল।
পুতুল খেলার বাহানা ছিল,
প্রেম শেখাটা তখনই হলো।
লাইন ধরে সব পেচ্ছাবরত;
বাচ্চাগুলোও লাজহীন ছিল।
কার পেচ্ছাব কত দূরে যেত
সেই প্রতিযোগিতায় বেলা পার হতো!
দাদা-ভাইদের চিঠিগুলো বয়ে,
পৌঁছে দিয়েছি দিদিদের হাতে।
দুই তরফের বকশিস পেয়ে
লাটাই ঘুড়ির শ্রাদ্ধ হতো!
সিনেমা কি বুঝি! তবু দেখা হতো
মা-খালাদের আঁচল ধরে।
প্রথম রঙিন ‘দ্য রেইন’ দেখে,
কত যে মরেছি মরার ঘোরে!

বন্দি

অদৃশ্য মৃত্যুর আলিঙ্গনে আবদ্ধ আমাতে
বিশুদ্ধ বায়ুর নিশ্বাস বয়; প্রতিদিন-প্রতিমুহূর্ত!
নিখাঁদ ভালোবাসাগুলো সখ্যতার ভিত গড়ে
ঝুলন্ত ঝরনার প্রতিটি বালু আর জলকণার সাথে।
বন্দি জীবনে সিঁদ কেটে প্রবেশ করে মুক্তির প্রত্যাশা,
আলো ও আঁধারের তারতম্য বুঝিয়ে দেয় চুড়ির
রিনিঝিনি আওয়াজ। বিনুনীর ধাপ বেয়ে মন
প্রতিদিন ছুটে যায় স্বর্গ দুয়ারে; যেখানে
খঞ্জর হাতে বসে থাকে স্বর্গদূত, তুমি, আর
নিশ্ছিদ্র মৃত্যুর নিশ্চয়তা!
আমি তো একটু একটু করে সেখানেই বন্দি
প্রতিদিন—প্রতিক্ষণ—প্রতিমুহূর্ত!

হয়তো-নয়তো ইদানীং

জানি তুমি ভালো নেই; আমিও...!
ভালো আর থাকা হয় না আমাদের;
হয়তো ইদানীং...!
শব্দরা ভালো নেই;
হরতাল নেই, অবরোধও নেই
অসহ্য বিরক্তিকর এই জীবন
নয়তো ইদানীং...!

এসইউ/এএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]