ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ক্ষমতাবানদের সহযোগী যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন আসলে কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘আমি যৌন শিকারি নই, আমি একজন যৌন অপরাধী,’ ২০১১ সালে নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন জেফ্রি এপস্টেইন। ‘এটি একজন খুনি আর একজন বেগেল (এক ধরনের বেকারি পণ্য) চোরের মধ্যে পার্থক্য।’

জামিনের সুযোগ ছাড়াই যৌন অপরাধের অভিযোগে বিচারের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ অগাস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত্যু হয় এপস্টেইনের।

একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনকর্মে বাধ্য করা সংক্রান্ত ঘটনায় যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল তাকে। তার বিরুদ্ধে যৌনতার জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের একটি ‘বিশাল নেটওয়ার্ক’ চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

আরও পড়ুন>>
এপস্টেইন ফাইলস/ ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েলে নাচগান করেন মোদী
ইসরায়েলে মোদীর নাচগানের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বললো নয়াদিল্লি
মোদী থেকে আম্বানি/ এপস্টেইন ফাইলসে যাদের নামে ভারতে তোলপাড়

মোদীর ইসরায়েলপ্রীতি ও এপস্টেইন ফাইল বিতর্ক

গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুমোদন করে। এরপর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিল স্বাক্ষর করেন যাতে বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সংঘটিত ফৌজদারি তদন্তের সব নথি প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে। একটি ফুটেজে দেখা যায়, যখন এপস্টেইনকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি নিজেকে শয়তান মনে করেন কি না, তিনি উত্তরে বলছেন, ‘আমার একটা ভালো আয়না আছে’।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সম্পূর্ণ ভিডিও ফাইলটিতে তাকে একজন সাক্ষাৎকারগ্রহীতার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে। যদিও কে প্রশ্ন করছে, কখন এবং কেন এই ফুটেজটি ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, ‘একটি অত্যন্ত বিস্তৃত নথি সনাক্তকরণ এবং পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার’ এসব নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু বিরোধী ডেমোক্র্যাটসহ অনেকেই বলছেন, যথাযথ যুক্তি দেখানো ছাড়াই বহু নথিপত্র আটকে রেখেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্ব

নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করে সেখানে বেড়ে ওঠা জেফ্রি এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের বেসরকারি ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিদ্যা পড়াতেন। তবে নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা ও গণিত অধ্যয়ন করলেও কখনো স্নাতক হননি।

তার এক ছাত্রের বাবা তাকে পছন্দ করতেন এবং এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি এপস্টেইনকে ওয়াল স্ট্রিট বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টার্নসের একজন জ্যেষ্ঠ অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন।

চার বছরের মধ্যে সেখানে অংশীদার হন এপস্টেইন। ১৯৮২ সালের মধ্যে তিনি তার নিজস্ব সংস্থা জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং গড়ে তোলেন। কোম্পানিটি তার গ্রাহকদের এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ পরিচালনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য অর্জন করে।

ফ্লোরিডার একটি প্রাসাদ, নিউ মেক্সিকোতে একটি খামার এবং নিউইয়র্কের বিশাল বড় ব্যক্তিগত বাড়ি, সেলিব্রিটি শিল্পী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মেলামেশা, ইত্যাদির পেছনের এপস্টেইন তার সম্পদ ব্যয় করতে শুরু করেন।

‘আমি জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। অসাধারণ মানুষ,’ ২০০২ সালে এপস্টেইন সম্পর্কে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘তার সঙ্গে থাকতে অনেক মজা লাগে। বলা হয়, সে আমার মতোই সুন্দরী নারীদের পছন্দ করে, যাদের অনেকেই তরুণ বয়সী। এতে কোনো সন্দেহ নেই - জেফ্রি তার সামাজিক জীবনটা উপভোগ করেন।’

পরে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, এপস্টেইন প্রথমবার গ্রেফতার হওয়ার কয়েক বছর আগে, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে তাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প একবার ‘কয়েক দশক আগে তার নারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার জন্য’ এপস্টেইনকে তার ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এপস্টেইন তার মার-এ-লাগো বিচ ক্লাব স্পাতে কাজ করা তরুণীদের ‘চুরি’ করেছিলেন। ‘একবার যখন সে এটা করে, এটাই ছিল তার শেষ।’

আরও পড়ুন>>
এপস্টেইন ফাইল তদন্তে সাক্ষ্য দেবেন বিল ক্লিনটন-হিলারি
এপস্টেইন ফাইলসে নাম: লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন লর্ড ম্যান্ডেলসন
এপস্টেইন বিতর্কে নাম জড়ানোয় যা বললেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের পাশাপাশি, এপস্টেইন আরও বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল বন্ধু রেখেছিলেন বলে জানা যায়। এপস্টেইন ২০০২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারকে একটি কাস্টমাইজড প্রাইভেট জেটে আফ্রিকায় নিয়ে যান। ২০০৩ সালে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টাইনের সঙ্গে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন কেনার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। একই বছর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেন এপস্টেইন।

সম্প্রতি বিল ক্লিনটন এবং তার স্ত্রী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।

জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনেরও বন্ধুত্ব ছিল। এই বন্ধুত্বের জন্য ম্যান্ডেলসন দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এ কারণে ২০২৫ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে চাকরিও হারাতে হয়। ম্যান্ডেলসন পরে লেবার পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন।

ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে এপস্টেইনকে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাজ্যের পুলিশ সরকারি অফিসে অসদাচরণের অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।

এপস্টেইন ফাইলের তথ্য অনুসারে, ম্যান্ডেলসন ইইউ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেলআউটের আগাম নোটিশ দিয়েছিলেন এপস্টেইনকে, যাতে তিনি ইউরো বাঁচাতে পারেন।

কিছু উচ্চপদস্থ বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও এপস্টেইন তার জীবনের অনেক কিছুই ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। জানা যায়, তিনি সামাজিক অনুষ্ঠান এবং রেস্তোরাঁয় ডিনার এড়িয়ে চলতেন।

তিনি মিস সুইডেন বিজয়ী ইভা অ্যান্ডারসন ডুবিন এবং প্রকাশক রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মতো নারীদের সঙ্গে প্রেমে জড়ালেও কখনো বিয়ে করেননি।

টিফানি অ্যান্ড কোং-এর সাবেক সিইও রোজা মঙ্কটন ২০০৩ সালের একটি নিবন্ধের জন্য ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেছিলেন, এপস্টেইন ‘খুব রহস্যময়’ এবং ‘একটি ক্লাসিক আইসবার্গ’ ছিলেন।

‘আপনার মনে হবে আপনি তাকে চেনেন এবং তারপর আপনি পেঁয়াজের খোসার আরেকটি আবরণ খুলে দেখেন এর নিচেও অসাধারণ কিছু আছে,’ মঙ্কটন বলেছিলেন। ‘আপনি যা দেখেন তা আপনি পান না।’

দোষী সাব্যস্তকরণ

২০০৫ সালে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ের বাবা-মা ফ্লোরিডার পুলিশকে জানান, এপস্টেইন তার পাম বিচের বাড়িতে তাদের মেয়ে যৌন নির্যাতন করেছেন। পুলিশ তল্লাশি করে পুরো বাড়িজুড়ে মেয়েদের ছবি খুঁজে পায়।

মায়ামি হেরাল্ড জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর তার নির্যাতন বহু বছর আগের ঘটনা। পাম বিচের পুলিশ প্রধান মাইকেল রেইটার সংবাদপত্রকে বলেন, এটি ‘উনি বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন’ জাতীয় পরিস্থিতি ছিল না। সবাই মূলত একই গল্প বলেছিল।

‘তিনি কখনো মেয়েদের বিষয়ে গোপনীয়তা রাখেননি,’ এপস্টেইনের মামলা যখন আদালতে উঠতে শুরু করে, সেই সময় কলামিস্ট মাইকেল উলফ ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন।

‘এক পর্যায়ে, যখন তার সমস্যা শুরু হয়েছিল, তখন তিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘কী বলবো, আমি অল্পবয়সী মেয়েদের পছন্দ করি।’ আমি বললাম, ‘হয়তো তোমার বলা উচিত, আমি তরুণীদের পছন্দ করি’।

তবে, ২০০৮ সালে প্রসিকিউটররা তার সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছিলেন। ফলে তিনি ফেডারেল অভিযোগ এড়িয়ে যেতে পারেন, যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন সাজা হতে পারতো।

তার বদলে তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এই সময়কালে তিনি সপ্তাহে ছয়দিন প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা তার অফিসে ‘কাজের জন্য মুক্তি’ পেতে সক্ষম হন। এর ১৩ মাস পর তাকে নজরদারির শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন>>
এপস্টেইন ফাইল কী? কেন এতো আলোচনায়
জেফরি এপস্টেইন: ধনকুবেরের মুখোশে ‘বিকৃত যৌনাচার’
ক্ষমতার আড়ালে বিকৃত লালসা: এপস্টেইন থেকে ইতিহাসের কুখ্যাত শাসকরা

ওই চুক্তির বিষয়ে মায়ামি হেরাল্ড জানিয়েছে, এপস্টেইনের অপরাধের ব্যাপকতা গোপন করে ফেডারেল প্রসিকিউটর আলেকজান্ডার অ্যাকোস্টা একটি প্লিহা চুক্তি (কম সাজার বিনিময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করে নেবেন) করেন। এপস্টেইনের অপরাধে আরেও ভুক্তভোগী রয়েছে কি না অথবা আরেও ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এর অংশীদার কিনা, এফবিআইয়ের সেই তদন্তও অ্যাকোস্টা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

পত্রিকাটি একে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ হিসাবে বর্ণনা করে। এই কেলেঙ্কারির কারণে অ্যাকোস্টা ২০১৯ সালের জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, তার এই কাজের ফলে এপস্টেইনের অন্তত কয়েক বছরের সাজা নিশ্চিত হয়েছিল।

২০০৮ সাল থেকে নিউইয়র্কের যৌন অপরাধীদের নিবন্ধন তালিকায় এপস্টেইনকে তৃতীয় স্তরের অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এটা হচ্ছে এমন একটি তালিকা, যাদের সারাজীবনের জন্য যৌন অপরাধ করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টেইন তার সম্পদ ধরে রেখে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা চালিয়ে গেছেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এপস্টেইনের সঙ্গে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের ছবি তোলা হয়েছিল, যা বিতর্কের জন্ম দেয়।

২০১৯ সালের নভেম্বরে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে, অ্যান্ড্রু বলেছিলেন, তিনি ২০১০ সালে তাদের বন্ধুত্ব ছিন্ন করার জন্য নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এপস্টেইনের বাড়িতে থাকার জন্য তিনি অনুতপ্ত। এপস্টেইনকে ১৯৯৯ সাল থেকে চিনতেন অ্যান্ড্রু।

পরে প্রকাশ হওয়া নথিপত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ইমেইল অনুসারে, অ্যান্ড্রু যতটা স্বীকার করেছিলেন, তিনি আসলে তার চেয়ে বেশি সময় ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

পরবর্তীতে, ২০২৫ সালে অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া রবার্টস (ভার্জিনিয়া গিফ্রে) অভিযোগ করেন, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে যখন তার বয়স ১৭ ছিল, তখন তাকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল।

অ্যান্ড্রু স্পষ্টভাবে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, লন্ডনে তাদের একসঙ্গে তোলা কোনো ছবির কথা তার মনে নেই।

কিন্তু ২০২২ সালে, তিনি গিফ্রেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তির জন্য লাখ লাখ অর্থ দিয়েছিলেন।

এন্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্ব সম্পর্কেও নতুন তথ্য উঠে এসেছে। যখন ইমেইলের তথ্য প্রকাশ পায় যে, ফার্গুসন কারাগারে থাকা এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তখন ফার্গুসনের দাতব্য সংস্থা সারাহ’স ট্রাস্ট ‘সাময়িক সময়ের জন্য’ তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।

প্যারিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত জেট বিমানে করে ফেরার পর এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই নিউইয়র্কে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, প্রসিকিউটররা তার নিউইয়র্কের প্রাসাদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদন করেছিলেন, যেখানে তার কিছু অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এপস্টেইন বরাবরই অন্যায় কাজ করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

আদালত জামিন নাকচ করার পর তাকে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন সংশোধন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। জুলাই মাসে তাকে ঘাড়ে আঘাতের জন্য কিছুক্ষণের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই তথ্য ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলেও ঘটনাটি নিয়ে কারা কর্মকর্তা বা তার আইনজীবীরা কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।

৩১ জুলাই আদালতে তার শেষ হাজিরা দেওয়ার সময় এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি এক বছর কারাগারে কাটাবেন এবং ২০২০ সালের গ্রীষ্মের আগে বিচার শুরু হবে না। প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, তারা বিলম্ব চান না এবং জনস্বার্থে দ্রুত বিচার শুরু করা হোক।

কিন্তু এপস্টেইন কখনো বিচারের মুখোমুখি হননি।

ম্যাক্সওয়েলের বিচার

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার সাবেক বান্ধবী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যে তার নির্জন বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়োগ ও ব্যবহার করে এপস্টেইনের নির্যাতনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক সিটির একটি জুরি বোর্ড তাকে ছয়টির মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল- একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনতার উদ্দেশ্যে পাচার করা। তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার ফলে ৬০ বছর বয়সী এই নারীকে তার বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হতে পারে।

অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা ম্যাক্সওয়েল এপস্টেইনকে বিল ক্লিনটন ও অ্যান্ড্রুসহ অনেক ধনী আর ক্ষমতাশালী বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

তার বন্ধুরা জানিয়েছেন, যদিও ম্যাক্সওয়েল ও এপস্টেইনের প্রেমের সম্পর্ক মাত্র কয়েক বছর স্থায়ী হয়েছিল, তবুও তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে গেছেন।

আদালতের নথিতে, পাম বিচের এপস্টেইন ম্যানশনের প্রাক্তন কর্মচারীরা ম্যাক্সওয়েলকে বাড়ির ব্যবস্থাপক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি কর্মীদের তদারকি করতেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতেন এবং সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন।

ভ্যানিটি ফেয়ারে ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রোফাইলে এপস্টেইন বলেছিলেন, ম্যাক্সওয়েল বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন না, বরং তার ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ ছিলেন।

বিচার চলাকালীন প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, ম্যাক্সওয়েল অল্পবয়সী মেয়েদের শিকারে পরিণত করে এপস্টেইনের নির্যাতনের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তার আইনজীবী দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার অপরাধের জন্য ম্যাক্সওয়েলকে বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, ম্যাক্সওয়েল কিছুটা অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা।’

তিনি ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যে যন্ত্রণা ভোগ করেছেন তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি আশা করি আমার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার কঠোর কারাবাস আপনাদের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে।’

ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে যুক্তি দেন যে, তার ভূমিকার জন্য তার বিচার করা বা তাকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত হয়নি। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেটি প্রত্যাখ্যান করে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা
কেএএ/