ইসরায়েলে মোদীর নাচগানের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বললো নয়াদিল্লি
ইসরায়েলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাচগানের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন নথিতে মোদীর নাম উঠে আসার পর এসব প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাখ্যা দেয় ভারত সরকার।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলে উদ্ধৃত একটি ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম কেবল ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তার সরকারি ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গেই উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে যেসব দাবি বা ইঙ্গিত করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
তিনি বলেন, এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
আরও পড়ুন>>
এপস্টেইন ফাইলসের তথ্য/ ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েলে নাচগান করেন মোদী
স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি? ট্রাম্পকে বলেন মোদী
ট্রাম্পের শপথে যেতে ‘একাধিকবার’ তদবির করেছিলেন মোদী
মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে চাই না: ট্রাম্প
‘ট্রাম্প ট্রমায়’ ভুগছেন নরেন্দ্র মোদী, জার্মান সংবাদমাধ্যমে দাবি
২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরে যান নরেন্দ্র মোদী। ১৯৯২ সালে দুই দেশের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর সেটিই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপস্টেইনের অপরাধ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্পর্কে সরকার কী জানতো, তা জনসমক্ষে আনতেই এই নতুন নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে রয়েছে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিকভাবে যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছিল, তার বাইরে আরও অনেক উপাদান এতে যুক্ত করা হয়েছে।
‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও জনচাপের পর এই আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে শুধু এপস্টেইন নয়, তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও সাবেক সঙ্গী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল সম্পর্কিত সরকারি নথিও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফ্রি এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। যৌন অপরাধ ও মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতারের প্রায় এক মাস পর তার মৃত্যু হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি আত্মহত্যা ছিল।
কী বলা হয়েছে মোদীর নামে?
প্রকাশিত একটি নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন এক ইমেইলে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদী যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে যৌন অপরাধী এপস্টেইনের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন।
এপস্টেইন দাবি করেন, মোদী তার পরামর্শ অনুসরণ করে ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। ওই সফরের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই মোদী যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন।
ইমেইলে এপস্টেইন আরও লেখেন, মোদী তার পরামর্শ শোনেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচগান করেন।
সূত্র: ইউএনবি, জেরুজালেম পোস্ট
কেএএ/