গণমাধ্যম সম্মিলনে হতাশা

দুই তথ্য উপদেষ্টার অঙ্গীকার সত্ত্বেও হয়নি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের আয়োজনে গণমাধ্যম সম্মিলনে উপস্থিত অতিথিরা/ছবি: জাগো নিউজ

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও নাহিদ ইসলামের অঙ্গীকার সত্ত্বেও হয়নি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন। এমন অভিযোগ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদের। আর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নিজেও জানেন না, কোন অদৃশ্য ‘জ্বিনের আছরে’ আইনটি হয়নি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গণমাধ্যম সম্মিলনে আইনটি নিয়ে এ হতাশার কথা জানান কামাল আহমেদ ও ফারুক ওয়াসিফ।

সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘পেশাটিতে অভ্যন্তরীণসহ নানাভাবে ঘুণে ধরেছে। এখন বাইরের আক্রমণের সামনে এসে আমরা বুঝতে পারছি আমাদের দুদিকে পুনঃগঠন দরকার।’

সরকার তার আওতার ভেতরে যা সম্ভব তা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন মিটিংয়ের পর মিটিং করে আমরা ফাইনাল করে আসলাম। গণমাধ্যম কমিশনের ২৭টি সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে গেল ও ১২টি ফিরে এল। এখন বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, এই ১২টি বিষয়ে অন্তত একটি বা দুটি পদক্ষেপ নিয়ে যাওয়া। যাতে পরের সরকার এটা (আইন) করে। কিন্তু এই যে (এখন) করা গেল না কোন অদৃশ্য জ্বিনের আছরে, আমি নিজেও পরিষ্কার না।’

দুই তথ্য উপদেষ্টার অঙ্গীকার সত্ত্বেও হয়নি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ জানান, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার প্রশ্নে আপস হচ্ছে বা রক্ষা করা যাচ্ছে না। এর পেছনে অনেক কারণ আছে।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার সুরক্ষার জন্য আমরা আইনের সুপারিশ করেছিলাম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে। এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল সবাই। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের যে দুজন উপদেষ্টা ছিলেন তারা অঙ্গীকার করেছিলেন আইনটা হবে, কিন্তু তা হয়নি। সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন গণমাধ্যমকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হয়েছেন, যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আক্রমণের শিকার হয়েছে, এর দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। কারণ তারা অঙ্গীকার করেও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি। এই সুপারিশের বিষয়টিকে এখন শিকেয় তুলে রেখেছে। এখনো দ্রুত আইনটা করা সম্ভব। আমরা আইনের খসড়া তৈরি করে দিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি পত্রিকা অফিসের মধ্যে একটায় ভাঙচুর, আরেকটার মধ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু কীসের নামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো? দেড় বছর আগে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরতন্ত্রকে পরাজিত করলাম। একটা রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যখন আমরা লড়াই করছি, তখন এই গণমাধ্যমগুলো আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনার মধ্যে যারা ছিলেন, তারা জুলাইকে ব্যবহার করে জুলাইয়ের মূল চেতনা, গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।’

নূরুল কবীর জানান, যে কোনো দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সেই সমাজের সার্বিক গণতান্ত্রিক বিকাশ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। তবে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় এই ঘটনা সত্য যে, সবচেয়ে বড় একটি বৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের কণ্ঠস্বরকে বন্ধ করার প্রবণতা থাকে।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য জরুরি। যে কোনো বিষয়ে, যে কোনো সময়, যে কোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।

অতীতের কাজ নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা করার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও এই তর্কগুলো, বিতর্কগুলো এখন হচ্ছে এবং কিছু পরিবর্তনের লক্ষ্য আমরা দেখছি। আমরা কিছু উদ্যোগও নিচ্ছি এবং তার মধ্যে আজকের সমাবেশও তার একটা প্রধান লক্ষ্য।’

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতায় নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ ও নৈতিক সাংবাদিকতা করার সময় এসেছে।

তিনি সাংবাদিকতা পেশার সবাইকে একসঙ্গে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

এসএম/একিউএফ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।