শেষবারের মতো প্রেস ক্লাবে মাহফুজউল্লাহ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বাদ আসর জাতীয় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দেশের রাজনীতিক, সুধীজনদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে তার লাশ প্রেস ক্লাবে আনা হয় এবং নামাজে জানাজা শুরু হয় ৫টা ২০ মিনিটে।

দেশের বিশিষ্ট এই সাংবাদিক শনিবার সকাল ১০টার দিকে (ব্যাংকক সময় ১১টা ৫ মিনিট) ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জেএসডির সভাপতি আ. স. ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সদস্য মাহবুব তালুকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহফুজউল্লাহ এদেশের যে কয়জন প্রথিতযশা সাংবাদিক, তার মধ্যে সে নিঃসন্দেহে অন্যতম। অসাধারণ একটা বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। যে সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নেয়নি নেশা হিসেবে নিয়েছিল এবং মাহফুজউল্লাহ একাধারে সাংবাদিকতা করেছেন, লিখেছেন প্রায় ৫০টির মতো বই। তিনি হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। তিনি আমার অত্যন্ত ভালো বন্ধু ছিলেন। যদিও আমার বয়সে ছোট, কিন্তু আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু ছিলেন, পরামর্শক ছিলেন এবং অনুপ্রেরণার একটা জায়গা ছিল। তাকে এভাবে আমাদের আগেই হঠাৎ করে চলে যেতে হবে, তার জানাজা পড়তে হবে, তা আমি ভাবতেও পারছি না। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে আমি নিজেই অত্যন্ত ভেঙে পড়েছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, তিনি সময়ের অগ্রগামী লেখক-সাহিত্যিক। উনাকে হারানোর যে অভাব, তা কোনো দিনও পূরণ হবে না। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসতেন।

বড় ভাই অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ বলেন, মাহফুজউল্লাহ অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিল। আপনারা সাক্ষ্য দেন তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। আপনারা দোয়া করবেন তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

ছেলে মোস্তফা হাবিব অন্তু বলেন, আমার আব্বার কথায় ও কাজে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। ১ মে বাবার কুলখানি এই প্রেস ক্লাবেই হবে, আশা করি আপনারা সেখানে অংশগ্রহণ করবেন।

জানাজা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিএনপি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, নোয়াখালীর জার্নালিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কেএইচ/এনএফ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :