এবার গণমাধ্যমকর্মীর বাইক আটকে হয়রানির অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১
কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে একটি মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা (ফাইল ছবি)

পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে থাকা নেক্সাস টেলিভিশনের দুই কর্মীর মোটরসাইকেল আটকে তাদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ স ম মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) মধ্যে যানবাহন সীমিত থাকায় দুইজন এক বাইকে চলাচল করায় তাদের মোটরসাইকেলটি তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই গণমাধ্যমকর্মী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মোটরসাইকেলে চড়ে মিরপুর গোল চত্বর হয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন নেক্সাস টেলিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আবুল আলা মওদুদি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার আসিফ হাসান। সে পথে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট পরিচয়পত্র চাইলে তা দেখান ওই দুই গণমাধ্যমকর্মী। তখন তাদের ছেড়ে দেন সার্জেন্ট। কিছু দূর যেতেই দুইজন এক মোটরসাইকেলে যাতায়াত করায় তাদের আটকে দেন ডিসি মাহাতাব উদ্দিন। এরপর তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে মামলা দেয়ার জন্য সার্জেন্টকে নির্দেশনা দেন। দুজনে এর প্রতিবাদ জানালে তাদের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যান তিনি। পরে তিন ঘণ্টা পর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মিরপুর মডেল থানা থেকে বাইকটি ফেরত নিয়ে আসেন তারা।

এ বিষয়ে নেক্সাস টেলিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আবুল আলা মওদুদি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এবং আমার অফিসের কলিগ দুজন আসছিলাম। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে প্রথমে পুলিশ আটকানোর পর ছেড়ে দেয়। এরপর গাড়িতে দুইজন চলাচল করার কারণে মিরপুরের ডিসি আ স ম মাহাতাব উদ্দিন একটু সামনে আমাদের আটকে দেন। পরে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেয়ার পর আইডি কার্ড দেখতে চান। সেটি দেখানোর পর তিনি বলেন ‘এটা ভুয়া’। এরপর তিনি গাড়ির চাবি নিয়ে নেন এবং কর্তব্যরত সার্জেন্টকে মামলা দিতে বলেন। কিন্তু আমি মামলা না নিয়ে পাশে সরে এসে মোবাইল ফোনে অফিসকে বিষয়টি জানাচ্ছিলাম। তখন ডিসি মাহাতাব উদ্দিন বাইক নিয়ে চলেন যান।’

আবুল আল মওদুদি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাইকের খোঁজ করলে সার্জেন্ট জানান মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর থানায় যাওয়ার পর তারা ডিসি মাহাতাব উদ্দিনের কাছে পাঠান। ডিসির কাছে গেলে তিনি আবার মডেল থানায় পাঠান। পরে অফিসের তরফ থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানো হলে সেখান থেকে ফোন আসে, তখন তারা বাইকটি ফেরত দেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আমাকে বাইকের জন্য ঘুরতে হয়েছে। অথচ আমার সকল কাগজপত্র সঙ্গেই ছিল।’

এ গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা জেনে কী করবেন? সার্জেন্ট ওদের মোটরসাইকেলের কাগজ দেখতে চেয়েছিলে। কাগজপত্র না থাকায় ওরা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে চলে গেছে। পরে তারা কাগজপত্র দেখিয়ে থানা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে।’

‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে কতো কিছুই তো বলে। ও কী বলল, না বলল তা আমার বিষয় না এবং আমি জানতেও চাই না। আমি যা বললাম তা-ই সত্যি। মোটরসাইকেলে দুইজন ছিল, করোনাকালে দুইজন মোটরসাইকেলে যাওয়া যাবে না। এরপরও তারা যখন সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছে নেক্সাস টেলিভিশনের কর্মী, কিন্তু এমন কোনো টেলিভিশন নাই, তাই মনে হয়েছে তারা ভূয়া। পরে কাগজপত্র চাইলে তারা মোটরসাইকেল রেখেই পালিয়ে যায়। পরে থানা থেকে কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়ি নিয়ে গেছে।’

এদিকে এ ঘটনা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন নেক্সাস টেলিভিশনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর আমীন আল রশীদ। তিনি লিখেছেন, ‘সাংবাদিকদের মুভমেন্ট পাস লাগবে না- এটা তো ঘোষিত। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে আমাদের দুই সহকর্মীর অফিসে যাওয়ার পথে মিরপুর গোল চত্বরে পুলিশ মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। গণপরিবহন বন্ধ বলে তারা দুজন একসাথে যাচ্ছিলেন। দুজনের সাথেই পরিচয়পত্র ছিল। কিন্তু তারপরও পুলিশ বাইক নিয়ে গেলো।’

‘প্রথমত কথা হচ্ছে, সরকারি ঘোষণায় মুভমেন্ট পাস বলে কিছু নেই। এটা পুলিশের অতি উৎসাহ এবং বেআইনি। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকসহ কয়েকটি পেশার লোকের পাস লাগবে না- সেটিও ঘোষিত। কিন্তু তারপরও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ অফিসাররা প্রতিনিয়তই যা করছেন, তা পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এগুলো স্যাবোটাজ কি না-খতিয়ে দেখা দরকার। আমার সন্দেহ হয়, কিছু লোক হয়তো পুলিশ-সাংবাদিক-ডাক্তারদের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইছে’—লিখেছেন আমীন আল রশীদ।

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল পুলিশ চেকপোস্টের ভিডিও করার সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সিনিয়র রিপোর্টার সাইদ রিপনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে ডিসি মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে

এছাড়া গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির সঙ্গে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাদানুবাদ হয়। যা ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে।

আইএইচআর/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]