মৃত্যুর পর ফিউরির ‘উতল মেঘের কাল’র মোড়ক উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য, লেখক ও সাংবাদিক ফিউরি খোন্দকারের মরণোত্তর গ্রন্থ ‘উতল মেঘের কাল’র মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। লেখক, কলামিস্ট লিজি রহমানের সম্পাদনায় বইটি প্রকাশ করেছে দিব্যপ্রকাশ।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ফিউরির বন্ধু-সহপাঠীদের আয়োজনে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ফিউরি ভাগ্যবান যে, আজ যারা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে তাদের মতো বন্ধু পেয়েছে। ফিউরির দুটো স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। বই প্রকাশের স্বপ্ন ও ৪৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক হতে পারা।

ফিউরির কর্মক্ষেত্র নিয়ে ডেইলি অবজারভার সম্পাদক বলেন, ফিউরি দায়িত্ববান ছিল। সে সময় মতো কাজে আসতো। নিজের কাজ শেষ হলেও অফিসে অন্যকে সময় দিতো।

বইটির প্রকাশক সাহিত্যিক মইনুল আহসান সাবের বলেন, তিনি (ফিউরি) লেখা প্রকাশে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শেষ দিকে হয়তো কিছু লেখা প্রকাশ হোক, সেটি অনুভব করেছিলেন। আমাকে তিনি কিছু বলেননি প্রকাশের জন্য। তার বন্ধুরাই সব উদ্যোগ নিয়েছে, আমি কেবল বইটি প্রকাশ করেছি।

ফিউরির স্মৃতিচারণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আজকের দিনটি একইসঙ্গে আনন্দ ও বেদনার। ফিউরি ভাই আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার বন্ধুরা যে কাজটি করেছেন তা বিরল। তার স্মৃতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার কাছ থেকে যে পরামর্শ ও সহযোগিতা পেতাম, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তার বইটি আমাদের প্রেস ক্লাবে সংগ্রহে থাকবে এবং এটি একটি সম্পদ হিসেবে থাকবে। তিনি প্রচারবিমুখ ছিলেন। মানুষের সঙ্গে মিশতেন, মানুষকে ভালোবাসতেন।

jagonews24

ফিউরির বন্ধু কবি ও সাংবাদিক শিহাব সরকার বলেন, ৫০ বছর ধরে আমাদের বন্ধুত্ব। আমরা সাহিত্যগ্রস্ত মানুষ। সাহিত্যসভা করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বই প্রকাশ করতে বলেছি, সে রাজি ছিল না। শেষের দিকে বই বের করার পরিকল্পনা করেছিল। আজ কষ্টের বিষয় হলো, সে তার বই প্রকাশের এ দৃশ্য দেখতে পেলো না।

গ্রন্থের আলোচক অধ্যাপক মোবাশ্বেরা খানম বুশরা বলেন, ফিউরি সত্তরের দশকে একজন জনপ্রিয় লেখক ছিলেন। অনেক লিখেছেন, পত্রপত্রিকায় তার বহু লেখা প্রকাশ হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার লেখা শুরু করেন। বইটিতে তার যৌবনের উচ্ছ্বাস নিয়ে বেশিরভাগ লেখা। বাকিগুলো কয়েক বছর আগের নন-ফিকশন ধাঁচের লেখা।

প্রথম দিকের লেখায় প্রেম আর দ্রোহ ও শেষের দিকের লেখাগুলো আত্মকথনমূলক। লেখার ভাষায়ও বেশ পরিবর্তন দেখা গেছে। যৌবনে ছিল ত্যাজ ও বিদ্রোহ। শেষে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি একজন শিল্পীও। জীবনকে গভীরভাবে ভেবেই তিনি তার জীবনকে লেখায় রূপ দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক ও আয়োজক এবং ‘উতল মেঘের কাল’র সম্পাদক লেখক-কলামিস্ট লিজি রহমান বলেন, বইটিতে ফিউরির জীবনের গল্পও রয়েছে। বইটির ভূমিকা লেখকের মৃত্যুর আগেই লিখেছেন সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার আবু সালেহ, মাসিক সরগমের সম্পাদক কাজী রওনক হোসেন, সাহিত্যিক, সাবেক সচিব ও ফিউরির সহপাঠী ইলিয়াস আহমেদ প্রমুখ।

এমকেআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]