রংপুরে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ


প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৬

রংপুরে পুলিশ কর্তৃক একুশে টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন আলী হায়দার রনি ও আর টিভির ক্যামেরা পারসন আবুল কাশেমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সাংবাদিক সমাজ।

বুধবার দুপুরে পেশাগত দ্বায়িত পালনে যাবার সময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে এ লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে।

পরে পিবিআই রংপুর ইউনিটের প্রধান আব্দুস সালাম দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীরা জানান, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পেশাগত কাজে মোটরসাইকেলযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন রনি ও কাশেম। এসময় মোটরসাইকেলটি শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় পৌঁছলে পিবিআই পুলিশের একটি ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মাটিতে পড়ে গিয়ে রনির ডান পায়ের অনেকটাই পুড়ে যায় এবং কাশেমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হওয়াসহ মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচরে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ভ্যানে থাকা পিবিআই প্রধানের দেহরক্ষি পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মতিন গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আহত রনি ও কাশেমকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মরধর শুরু করেন।

Rangpur

এসময় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠলে তোপের মুখে পড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান পুলিশ সদস্য আব্দুল মতিন। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে রংপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রনি ও কাশেমকে উদ্ধারের পর প্রেসক্লাব চত্বরে সমবেত হয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মতিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে প্রেসক্লাবে যান পিবিআই রংপুর ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম।

এসময় তিনি পরোক্ষভাবে দুই ক্যামেরাম্যানকে ঘটনার জন্য দায়ী করে বলেন, ওই মোটরসাইকেলের আঘাতে তাদের গাড়ির পেছনের লাইট ভেঙ্গে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার টাকা। কিন্তু দুই সাংবাদিককে মারধর করার ব্যাপারে কোনো কথা না বলায় সাংবাদিকরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এসময় সংবাদিকরা দায়ী পুলিশ কনস্টেবল মতিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পিবিআই পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

এসময় বক্তব্য দেন, রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ, সাংবাদিক মাহবুব রহমান, লিয়াকত আলী বাদলসহ অন্যান্য সিনিয়র সাংবাদিকরা। পরে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী পুলিশ কনস্টেবল মতিনকে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। তবে সন্ধ্যার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং ক্ষতিপূরণ না দিলে আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করার ঘোষণা দেন সাংবাদিকরা ।

এ ঘটনায় আহত রনি ও কাশেমকে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জিতু কবীর/এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।