বাড্ডায় রিকশাচালকদের অবরোধে সীমাহীন ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা মহানগর এলাকায় আকিজ কোম্পানির মোটা চাকার তিন ধরনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধের দাবিতে রাজধানীর উত্তরবাড্ডা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেছেন চালকরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উত্তরবাড্ডা ফুজি টাওয়ারের সামনে এ অবরোধ শুরু করেন তারা।

এতে আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা থেকে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে গুলিস্তান এবং গুলিস্তান থেকে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে উত্তরা অভিমুখী সড়কে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল থেকে চিকন চাকার অটোরিকশাচালক এ অবরোধে এ রাস্তায় চলাচল করা মানুষেরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন তারা।

বাড্ডায় রিকশাচালকদের অবরোধে সীমাহীন ভোগান্তি

বেলা পৌনে ১১টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড থেকে অবরোধস্থলে যেতে পথে সারি সারি মানুষকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। দূরের যাত্রীরা অনেকে ব্যাগ কাঁধে হাঁটছেন, কেউবা অফিস ধরতে রাস্তায় দৌড়াচ্ছেন। নারীরা শিশুদের কোলে নিয়ে গন্তব্যের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

গুলিস্তান থেকে মালপত্র কিনে উত্তরার দিকে যাচ্ছেন কাপড়ের ব্যবসায়ী আসাদ আলী। তার কাছে মালপত্রে ঠাসা দুটি বস্তা। একটি মাথায়, আরেকটি হাতে নিয়ে হাটতে দেখা যায় তাকে।

আসাদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা এখানে আটকা৷ এভাবে আর কত সময় বসে থাকবো। দোকান না খুললে তো পেট চলবে না। সেজন্য হেঁটে যাচ্ছি। সামনে ভ্যান পাই কি না দেখি। আমরা তো নিরূপায়।

খিলগাঁও থেকে বাসে করে উত্তরায় মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন এক নারী। সঙ্গে বড় একটি ব্যাগ। বাস দীর্ঘ সময় থেমে থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় নেমে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। জানতে চাইলে ওই নারী বলেন, মেয়ের বাড়ি যাচ্ছি। পিঠা-আটা কিছু বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এখন এত বড় ব্যাগ নিয়ে আমি মহিলা মানুষ কীভাবে এত পথ হেঁটে যাবো। কিন্তু এভাবে বসে থাকলে তো নাতির জন্য যে পিঠা বানাইছিলাম, সব পথেই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই হাঁটা শুরু করছি।

বাড্ডায় রিকশাচালকদের অবরোধে সীমাহীন ভোগান্তি

সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছেন আফরোজা আক্তার নামে এক নারী। তিনি থাকেন আফতাবনগরে। মেয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় পড়ে। অবরোধ দেখে শিশুটি ভয়ে হাঁটতে চাইছে না।

আফরোজা আক্তার জানান, স্কুল থেকে ১১টায় ছুটি হয়েছে। পথে রিকশা-বাস কিছুই নেই। হেঁটে হেটে আসলাম। এখানে চিৎকার শুনে মেয়ে আর সামনে যেতে চাইছে না। ভয়ে কাঁদছে। এখন এক পাশে দাঁড়িয়ে আছি।

এএএইচ/এসএনআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।