নীতিমালা সংশোধন
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমলো, বাড়লো উচ্চশিক্ষায় সুযোগ
সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তন এনে ‘জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩’ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত নীতিমালায় ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ কমানো হয়েছে, আবার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়িয়ে সুযোগ বিস্তৃত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ‘সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ’-এর নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ’। পিএইচডি গবেষণার ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রত্যয়ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বেতন বন্ধ থাকবে। এছাড়া ক্যাডার বহির্ভূত ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমাও কয়েকটি ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে।
১৮ জানুয়ারি নীতিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এ দেওয়া ক্ষমতাবলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট এ নীতিমালা করেছিল।
পেশাগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়, সব ক্যাডারের এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত নন ক্যাডার ও অন্যান্য কর্মচারীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ চাকরিতে প্রবেশের দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ক্যাডার বহির্ভূত এবং নন ক্যাডার থেকে ক্যাডার পদে অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৫ বছর। স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত পেশা-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কোর্স চাকরিতে প্রবেশের ২ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আগের নীতিমালায় ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ বয়সসীমা ছিল ৫০ বছর।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে- ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, মাস্টার্স, এমফিল, পিএইচডি অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৪৭ বছর।’ আগের নীতিমালায় এই বয়সসীমা ছিল ৪৫ বছর।
ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ আগে নীতিমালায় ৬ মাস থাকলেও সংশোধিত নীতিমালায় তা কমিয়ে ৪ মাস করা হয়েছে।
বছরে কর্মচারীদের ৬০ ঘণ্টার দাপ্তরিক (ইন-হাউজ) প্রশিক্ষণের বিষয়ে সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে ‘সরকারি দপ্তরসমূহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কাজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত বিষয়সমূহের ওপর উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মচারীর জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রতি অর্থবছরে ন্যূনতম ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে।’ নীতিমালায় আগে বলা হয়েছিল- প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫ ঘণ্টা হিসাবে প্রতি বছরে কমপক্ষে ৬০ ঘণ্টা।
আগের ‘সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ’ এর নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ’।
আগের নীতিমালায় বলা ছিল- উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য কোনো কর্মচারী পূর্ণ বৃত্তিপ্রাপ্ত হলে বৃত্তিপ্রাপ্ত মেয়াদের জন্য প্রেষণ মঞ্জুর করা যাবে। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কোনো কর্মচারী পূর্ণ বৃত্তিপ্রাপ্ত হলে বৃত্তিপ্রাপ্ত মেয়াদের জন্য প্রেষণ মঞ্জুর করা যাবে; আংশিক বৃত্তিপ্রাপ্ত হলেও প্রেষণ মঞ্জুর করা যাবে।
প্রেষণ বা ছুটি গ্রহণের আবশ্যকতার ক্ষেত্রে নতুন একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। সংযোজন করা নীতিমালার ১৮.১ (ঝ) উপ-উপানুচ্ছেদে বলা হয়েছে- পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রেষণ মঞ্জুরের পর প্রেষণ গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রত্যয়ন গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক এবং যেসব কর্মকর্তা তা পাঠাতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বেতন বন্ধ থাকবে।
আরএমএম/এমআইএইচএস