ফেসবুক প্রতারণায় কোটি টাকার সম্পদ, শেষ রক্ষা হলো না মনিরুলের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)/ফাইল ছবি

ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মহানগর দায়রা আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজের আদেশে প্রতারক মনিরুল ইসলামের নামে থাকা মোট ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে বিভিন্ন পেশার বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। তিনি কখনো নিজেকে ডাক্তার, কখনো কলেজের অধ্যক্ষ, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। ফোন কলে নারী কণ্ঠ ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জনের পর বাবা-মায়ের অসুস্থতার কথা বলে সহানুভূতি আদায় করে ধার হিসেবে অর্থ গ্রহণ করতেন। অর্থ পাওয়ার পর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, প্রতারক নিজের নামে ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকার ডেমরা থানাধীন আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি (দলিল মূল্য ৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা) এবং দারুসসালাম থানাধীন বড়সায়েক মৌজায় ২ হাজার ১৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (দলিল মূল্য ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা) ক্রয় করেন।

আদালতের আদেশে জমি ও ফ্ল্যাটসহ সর্বমোট ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণা করে ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিআইডি বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করে। মামলায় মনিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করা হয়।

তদন্তকালে প্রতারণার অর্থ দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতের কাছে সম্পত্তি জব্দের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

টিটি/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।