জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস/ ছবি- পিআইডি

জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, জাতীয় পোল্ট্রি খাতকে টেকসই, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই নীতিমালা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত, যার প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। ফলে এই খাত নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, পোল্ট্রি খাত বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ। প্রতিবছর গড় প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন 
দর-কষাকষিতেই হবে বাড়িভাড়া, নির্ধারণ করে দেয়নি উত্তর সিটি 

সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোল্ট্রি খাতে বড় খামারগুলোর আধিপত্য বাড়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের মুখে পড়ছেন। বাজারে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম- পোল্ট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জিং ও রি-ইমার্জিং রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার, খাতজুড়ে সারভেলেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র খামারিরা হারভেস্টের সময় পণ্য সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

নীতিমালায় গ্রামীণ পোল্ট্রি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব, সংকটকালে প্যারেন্ট স্টক আমদানির সুযোগ, দেশীয় জাত সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডিম ও মাংসের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, পোল্ট্রি শিল্পে ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে, যা নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতে রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি করবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

খসড়া অনুমোদনের পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এমইউ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।