নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথবাক্য পাঠ করছেন

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকেও শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিয়োগ ও দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন হলো। এর মাধ্যমে ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করলো বিএনপি। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ৩ মন্ত্রণালয়-বিভাগ

নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রধানমন্ত্রী নিজের কাছে রেখেছেন।

যে মন্ত্রী যে দপ্তর পেলেন

১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর – স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী – অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

৩. সালাহউদ্দিন আহমদ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

৫. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)– মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

৬. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন – মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

৭. ড. খলিলুর রহমান– পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৮. আব্দুল আউয়াল মিন্টু – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ – ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১০. মিজানুর রহমান মিনু – ভূমি মন্ত্রণালয়

১১. নিতাই রায় চৌধুরী– সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১২. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির– বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

১৩. আরিফুল হক চৌধুরী – শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

১৪. জহির উদ্দিন স্বপন– তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ– কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়

১৬. আফরোজা খানম রিতা– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

১৭. মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি– পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

১৮. আসাদুল হাবিব দুলু – দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

১৯. মো. আসাদুজ্জামান – আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

২০. জাকারিয়া তাহের– গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

২১. দীপেন দেওয়ান – পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

২২. আ ন ম এহছানুল হক মিলন – শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

২৩. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)– স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

২৪. ফকির মাহবুব আনাম– ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

২৫. শেখ রবিউল আলম– সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন

 ১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

৩. মো. শরীফুল আলম – বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম – পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু– কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়।

৬. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল– ভূমি মন্ত্রণালয়, 

৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ– পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

৮. মো. আমিনুল হক– যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১০. হাবিবুর রশিদ- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

১১. মো. রাজিব আহসান-সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়

১২. মো. আব্দুল বারী- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

১৩. মীর শাহে আলম- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

১৪. মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি- অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

১৫. ইশরাক হোসেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৬. ফারজানা শারমীন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

১৮. মো. নুরুল হক- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

২০. এম ইকবাল হোসেইন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

২১. এম এ মুহিত- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

২২. আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

২৩. ববি হাজ্জাজ- শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি জোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা মিলে ৮টি আসনে জয় পেয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।

 আরএমএম/বিএ/এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।