পরিবহনে চাঁদাবাজি

আগের বক্তব্যে অটল থেকে মন্ত্রী বললেন, অনেকে সমালোচনা করতে পছন্দ করেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিকরা সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তুলছে, এটি চাঁদা নয়- আগে দেওয়া এমন বক্তব্যে অটল থেকে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এটি পরিষ্কার করেছি, কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যে অনেকে সমালোচনা করতে পছন্দ করেন।’ 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

আপনি প্রথম বৈঠকে সড়ক মন্ত্রণালয়ে বলেছিলেন যে, সড়কের সমঝোতা করলে আসলে চাঁদাবাজি না। বিষয়টি কি আপনি পরিষ্কার করবেন? এটা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিষ্কার আমি করেছি, বিভিন্ন জায়গায় বলেছি। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে যে সমালোচনা তো অনেকে করতে পছন্দ করেন। যারা সমালোচনা করতে চান তাদের তো আর আপনি নিবৃত করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বোঝাতে চেয়েছি চাঁদা এবং চাঁদাবাজি—দুটি জিনিসের পার্থক্য আছে। চাঁদাটা কোনো কোনো সময় শ্রমিক এবং মালিকদের স্বার্থে তারা নির্ধারণ করে, তারাই নির্ধারণ করে মানে আমি বোঝাচ্ছি সমঝোতা করে তারা তাদের কল্যাণে কালেক্ট করে তাদের মতো করে ব্যয় করে। তাদের যে প্রক্রিয়া আছে সেটা তারা অনুসরণ করে। কোনো কোনো জায়গায় এটাকে চাঁদাবাজি বলাটা কঠিন। চাঁদাবাজি আমি বলতে চাচ্ছি—চাঁদাবাজি হচ্ছে সেটি যেটি মানুষকে বাধ্য করে জোর করে নেওয়া হয়। তাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া না, কোনো অবৈধ শক্তি সেটা করতে চায়। সেটা করার কোনো সুযোগ নেই, সেটা আমাদের এই মন্ত্রণালয়ে থাকবে না। যেকোনো মূল্যে আমরা সেটা হতে দেবো না, সেটা আমাদের অঙ্গীকার।’

আরও পড়ুন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাঁদাবাজি বাড়ে ২০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত
কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ অনেক কঠিন: সাইফুল আলম মিলন
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিচ্ছে, চাঁদা আকারে দেখার সুযোগ নেই

‘কিন্তু যেটাকে কোনো কোনো সময় চাঁদাবাজি বলা হয়, সেটা অনেক সময় সমঝোতা করে নিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। তাদের অর্থ তারা এই হারে কালেক্ট করে তাদের এই কল্যাণে ব্যয় করবে। সেটা আমার জায়গা থেকে রহিত করার কোনো সুযোগ থাকে না, আমি সেটি মিন করতে চেয়েছি।’

এই টাকার কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সেটা অপরাধ, সেটা আমরা নজরদারি করবো।

আপনি যেটা বলছেন যে শ্রমিকদের কল্যাণে তারা ব্যয় করে। আমরা আসলে বিগত দিনে কোথাও দেখিনি যে কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় পড়লে মালিকপক্ষ থেকে তাদের কোনো সহায়তা করা হয়েছে- এ বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আপনি দেখেন নাই? আমি মালিকদের নিয়ে বসছি... আপনি তো দেখেন নাই, এটা দেখার বিষয় না। কথাটা হচ্ছে আমি শ্রমিক কেন্দ্রীয় সংগঠন যারা আছে তাদের নিয়ে বসেছি ওই ঘটনার পর। মালিকদের যে সমস্ত সমিতি আছে তাদের নিয়েও বসেছি। তারা ব্যয় করেন।’

তিনি বলেন, ‘আর সবচেয়ে ব্যাপার হচ্ছে, আপনি একটা শর্তে একটা সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়েছেন, ট্রেড ইউনিয়ন করছেন—সেখানে কোনো ব্যত্যয় হলে এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তারা দেখতে পারে।’

‘চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই একটা ফৌজদারি অপরাধ। নিশ্চয়ই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি দেখতে পারে, ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ব্যবস্থা নেবে। আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়—আমাদের এটা নিরাপদ সড়ক রাখতে চাই। পরিবহনগুলো একটা শৃঙ্খলার সাথে সেটা চলছে এবং যাত্রী বহন করছে, এটা আমাদের সুপারভিশনের দায়িত্ব। সে জায়গায় আমরা মনোযোগী আছি। যেখানে ব্যত্যয় হচ্ছে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে এখানে একটা জবাবদিহি আনার চেষ্টা আমাদের অঙ্গীকার এবং সেটা করছি।’

আপনার কি মনে হয় চাঁদাটা বৈধ- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার কাছে কি তাই মনে হলো, চাঁদাটা বৈধ। এখন ধরেন আপনি... আমি তো মসজিদ কমিটিতে চাঁদা দিচ্ছি, এখন কী বলবেন? আমি তো রিহ্যাবের মেম্বার, প্রতি বছর চাঁদা দিই—কী বলবেন? এটা অবৈধ বলবেন? আমি জাতীয় নির্বাহী কমিটির মেম্বার, আমার পার্টিকে একটা নির্ধারণ করা আছে চাঁদা দিতে হয় বছরে, অল্প কয়টা টাকা। আপনি কি অবৈধ বলবেন? আপনি অবৈধ বললে বলতে পারেন, আমি তো আপনাকে বাধা দিতে পারবো না।’

আরএমএম/ইএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।