কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যা: দ্রুত বিচার দাবি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমজেএফ ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, দেশে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। গণমাধ্যমের সূত্রমতে ওই কিশোরী ১৫ দিন আগে স্থানীয় এক বখাটের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় জনের একটি দল দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনার বিচারের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্যের শরণাপন্ন হয় ওই কিশোরীর পরিবার। তবে বিচার পায়নি পরিবারটি। তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, তার সামনে থেকে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সকালে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান।
এদিকে রাজধানীর পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে ছয় বছর বয়সি কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করে ওই স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। পরিবারের দাবি, থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ গড়িমসি করে। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘেরাও করলে রাত ১১টার দিকে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, খোদ গত মাসে ৩৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। এছাড়া ২৫ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। উভয় ঘটনায় গড়ে প্রায় ১ জন করে প্রতিদিন অপরাধের শিকার।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন মনে করে, নারী ও শিশুর প্রতি এমন বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমজেএফ নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করে। একইসাথে, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার কিশোরী পরিবারের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে- এই অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে ভবিষ্যতের ধর্ষকদের রুখে দিতে এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে। এখনই সময়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।
এনএইচআর