বইমেলায় এবার মবের আশঙ্কা নেই: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার

অমর একুশে বইমেলায় এবার মবের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার তবে মব মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি থাকবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলায় নিরাপত্তা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এবার মবের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, মবের কোনো আশঙ্কা নেই তবুও পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে।

ধর্ম অবমাননা অথবা উসকানিমূলক বই মেলায় এলে পুলিশের করণীয় কী থাকবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করবে যাতে এমন বই মেলায় না আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার বলেন, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশ এলাকায় নিশ্ছিদ্র ও কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেলা প্রাঙ্গণে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা পুরো মেলা এলাকা মনিটরিং করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মেলা প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশে প্রায় ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেলায় প্রবেশের প্রতিটি গেটে মেটাল ডিটেক্টর এবং আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে। এছাড়া ডগ স্কোয়াড দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশে নিয়মিত সুইপিং কার্যক্রম চালানো হবে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির বিশেষায়িত টিম সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, সিটিটিসি এবং ডিবি পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ওই দিনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মেলায় আগত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং সেন্টার বা কর্নার এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও থাকবে।

ট্রাফিক নির্দেশনা ও পার্কিং

সারওয়ার বলেন, বইমেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেলা চলাকালীন ঢাবি এলাকায় কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি জনসমাগম বিবেচনায় সময়ে সময়ে খোলা বা বন্ধ রাখা হবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা মেলা গেট পর্যন্ত যানবাহনের জন্য অপেক্ষা না করে কিছুটা আগেই নেমে হেঁটে মেলায় প্রবেশ করেন। এতে প্রবেশ পথগুলোতে যানজট কম হবে এবং অন্যদের চলাচল সহজ হবে। এছাড়া অনুমোদিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি পার্কিং না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টিটি/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।