‘ফ্যামিলি কার্ডের টেহাটা দিয়া মাইয়াডারে পড়ালেহা করামু’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
মোবাইল ফোনে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা আসায় উচ্ছ্বসিত নারীরা/ছবি: মাহবুব আলম

‘বিশ্বাস করবেন না, মোবাইলে মেসেজটা আসার পর আমার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে। এত খুশি হয়েছি যে ভাষায় বোঝাতে পারবো না’—ফ্যামিলি কার্ডের টাকা হাতে পাওয়ার অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করছিলেন কড়াইল বস্তির এক নারী।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন এমন অসংখ্য আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের ভাতার টাকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক নারী আনন্দ, বিস্ময় ও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেন। সরকারি এই সহায়তাকে কেন্দ্র করে অনেকেই নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন।

হোসনা নামের এক নারী বলেন, টাকা পেয়ে আমরা খুব খুশি। সামনে ঈদ। তারেক রহমান আমাদের টাকা দিলো—ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালো করে ঈদ করতে পারবো।

পারভিন নামের আরেক নারী বলেন, ঈদের আগে টাকাটা পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। নিজের জন্য কিছু কিনতে পারবো, ছেলে-মেয়ের জন্যও কিছু কিনতে পারবো।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া এক নারী বলেন, আমরা জীবনেও কল্পনা করি নাই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাব। প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের অন্তর থেকে দোয়া—তিনি যেন ভালো থাকেন, গরিব মানুষের পাশে থাকেন।

আরেক নারী বলেন, মোবাইলে যখন মেসেজ আসছে, তখন সত্যি বলতে চোখ দিয়ে পানি পড়েছে। এই টাকাটা আমাদের সত্যিই খুব দরকার।

একজন মা বলেন, ঈদের আগে টাকা পেয়ে আমরা খুব খুশি। বাচ্চাদের জন্য মার্কেট করতে পারবো, সংসারের খরচ চালাতে পারবো।

এক নারী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের টেহাটা দিয়া মাইয়াডারে পড়ালেহা করামু।’

এক অসুস্থ নারী আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কোনো কাজ করি না, অসুস্থ। হার্টের সমস্যা আছে। আমার স্বামীও অসুস্থ। এই টাকাটা পেয়ে আমার জন্য অনেক ভালো হলো। বাজার করতে পারবো, ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবো।’

আরেক নারী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তারেক রহমান আমাদের যে টাকা দিলো, এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হলো। একজন নারী জানান, কার্ড করতে আমাদের নাম নেওয়ার সময় কোনো টাকা লাগে নাই। ঘরে ঘরে গিয়ে নাম নিয়ে গেছে, কোনো ঝামেলা হয়নি।

একজন বয়স্ক নারী বলেন, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, চলতে ফিরতে পারি না, কাজ করতে পারি না। এটা আমাদের জন্য খুব উপকার হলো।’

এক নারী জানান, আমার মোবাইলে এসএমএস এসেছে। আমি তো পড়তে জানি না। আমার ছেলের বউ পড়ে বলেছে—ফ্যামিলি কার্ডের টাকা এসেছে। বিকাশে টাকা তুলে বাড়িতে রেখে আবার এখানে এসেছি।

এদিন কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে ১৭টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং মঞ্চে স্থাপিত ল্যাপটপে সবুজ বাটন চাপ দিয়ে উপকারভোগীদের মোবাইলে প্রথম মাসের ভাতার টাকা পাঠিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।