বাসায় গ্যাস নেই, হোটেলে খাবার পেতে ‘যুদ্ধ’
দুপুরে বাচ্চারা কলা-রুটি খেয়েছে। এখন বলছে ভাত খাবো। বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকা থেকে শুরু করে লিংক রোড পর্যন্ত ঘুরে খাবার কিনতে পারিনি। হোটেলে এত ভিড় যে বাচ্চাদের নিয়ে ঢুকতেই পারছি না।
রোববার (৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডার মা বিরিয়ানি হাউজ নামে হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন সীমা আক্তার নামের এক নারী। তিনি মধ্যবাড্ডার ময়নারবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অফিসের কাজে তার স্বামী আছেন ঢাকার বাইরে।
সীমা আক্তার ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে ও চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে খাবারের খোঁজে বেরিয়েছেন। কিন্তু কোথাও খাবার না পেয়ে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার সঙ্গে থাকা ছেলে ও মেয়ে—দুজনই ক্ষুধা ও বাইরে হাঁটাহাটি করে ক্লান্ত হয়ে কান্না করছিল।
সীমা জাগো নিউজকে বলেন, বাসায় সকালে নাস্তা বানিয়েছিলাম। সেটা ছেলে-মেয়েকে নিয়ে খেয়েছি। দুপুরে রান্না করতে গিয়ে দেখি গ্যাস নেই। তরকারি কেটে রেখেছি। ভাতের চালও ধুয়ে রেখেছি। কিন্তু গ্যাস আর আসেনি। কে জানতো যে হঠাৎ লাইনের গ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে!
শুধু সীমা নয়, এদিন মধ্যবাড্ডা, উত্তরবাড্ডা এলাকায় ঘুরে খাবারের খোঁজে মানুষকে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। হোটেলগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ঠেলাঠেলি করে কেউ কেউ খাবার কিনতে পারলেও অধিকাংশই খাবার পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন
‘গ্যাস নিয়ে ঝামেলায় আছি, রান্না করতে গেলে মেজাজ খারাপ হয়’
এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ
গুলশান-১ চত্বর এলাকায় রোববার (৩ মে) সকালে খোঁড়খুড়ির সময় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় লাইন বন্ধ রয়েছে। এতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় লাইনের গ্যাস নেই। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বাড্ডা এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও চুলা জ্বলছে না।
হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। বাসায় গ্যাস না থাকায় আশপাশের হোটেলে ভিড় করছেন তারা। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খাবার কিনতে ছোটাছুটি করছেন বাবা-মায়েরা।
গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে নয়ন বিরিয়ানি হাউজ। এমনিতেই এ খাবারের হোটেলে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। গ্যাস না থাকায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। দোকানের ভেতরে-বাইরে মানুষের জটলা। কেউ কেউ নিজেই প্যাকেটে খাবার তুলে নিচ্ছেন।
বাসায় গ্যাস না থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে নয়ন বিরিয়ানিতে এসেছিলেন মোহাম্মদ আজম নামে এক যুবক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গ্যাস নেই, ভাবছিলাম এখানে খেয়ে যাই। কিন্তু এসে খাওয়া তো দূরে থাক, দোকানের আশপাশেই যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। স্ত্রীকে নিয়ে আসছি…বাজে পরিস্থিতি দেখে দূরে দাঁড়িয়ে আছি।

নয়ন বিরিয়ানির উল্টো দিকে ভাতের হোটেলসহ বেশ কয়েকটি খাবারের ছোট ছোট দোকান। সেগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব খাবার শেষ। আজকে তাদের আর কোনো খাবার আসবে না। ফলে দোকান বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নান্না বিরিয়ানির পরিবেশক আব্দুস সামাদ বলেন, অন্যদিন ১১-১২টা পর্যন্ত হোটেল খোলা রাখি। যা রান্না করে আনি, তা বিক্রি করেও কিছু ফেরত যায়। আজকে ৮টার মধ্যে সব বিক্রি হয়ে গেছে।
বাড্ডার আদর্শনগর গলির মুখে দুটি খাবারের দোকান। সেখানে কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহেরি ও মোরগ পোলাও বিক্রি হয়। প্রতিদিন যা রান্না করেন, তার চেয়ে তিন ডেসকি বাড়তি এনেও তা শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতারা অপেক্ষায় রয়েছেন যে কখন আরও এক ডেসকি খাবার আসবে।
বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকার খাবারের দোকান ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। কোনো দোকানেই খাবার নেই। কেউ কেউ বাসায় বা যেখানে খাবার রান্না করে আনে, সেখানে নতুন করে খাবার রান্না চলছে বলে জানিয়ে ক্রেতাদের বসিয়ে রেখেছেন। বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে রয়েছেন ক্রেতারা।
এএএইচ/কেএসআর