ঢামেক জরুরি বিভাগ চালু, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ‘শাটডাউন’

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢামেক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা মেডিকেলে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা/ছবি জাগো নিউজ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক দীপ্ত নুর কল্লোল এ ঘোষণা দেন।

দীপ্ত নুর কল্লোল বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ফের জরুরি বিভাগ বন্ধ বা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হবে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাবির এক শিক্ষার্থীকে মারধরকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

jagonews24

সমস্যা সমাধানে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে চিকিৎসকের রূঢ় আচরণের অভিযোগে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন।

আরও পড়ুন
ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢামেক চিকিৎসকদের হাতাহাতি, বন্ধ জরুরি বিভাগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ঢাবির অমর একুশে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বোটানি বিভাগের ছাত্র সানিম ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেন। তবে ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ওষুধ হাসপাতালের সরবরাহে না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়।

পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত ওষুধ বাইরে পাওয়া যাচ্ছে না। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

jagonews24

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের দাবি, সানিমের ওপর হামলার খবর পেয়ে অমর একুশে হল থেকে একদল শিক্ষার্থী হাসপাতালে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দেন এবং নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুরুতর রোগীরা বিপাকে পড়েন।

কাজী আল-আমিন/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।