নেক্সাস পে আপডেটের ফাঁদে ১৩ লাখ টাকা খোয়ালেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। তার নাম মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩)।

সিআইডি জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেড-সংক্রান্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কথা বলা হয়। সরল বিশ্বাসে তিনি তার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত ৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কল পান। কলকারী নিজেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেড-সংক্রান্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং জরুরি ভিত্তিতে কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কথা বলেন। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী তার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন।

এর সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ৭ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ১২টি অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করে। এতে সর্বমোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করার পর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিটের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

jagonews24

প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি-ছবি এআই

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

তার ভাষ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন কাজের প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রতারক চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও বলেন, পরবর্তীতে চক্রটির নির্দেশনায় তিনি ‌‘লাইন বেট’ ও ‘রেডি’ নামের অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারক চক্রকে সহায়তা করতেন। একই সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করতেন।

সিআইডি সবাইকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনোভাবেই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ওটিপি বা ব্যাংক-সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রদান না করার জন্য অনুরোধ করেছে।

টিটি/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।