মাঝরাত থেকে শুরু সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে/ ফাইল ছবি

বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ৫৮ দিনের জন্য মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছিল সরকার। শুরুতে এই আদেশ কেবল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য ছিল। পরে ২০১৯ সাল থেকে উপকূলীয় সব ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকাকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।

তবে দীর্ঘ ৬৫ দিনের এই অবরোধ নিয়ে বাংলাদেশি জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা বন্ধ থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা আমাদের জলসীমায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ শিকার করতেন।

আরও পড়ুন
এবার পারস্য ও লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরানের 
৬ জেলায় তাপপ্রবাহ, বৃহস্পতিবার থেকে কমতে পারে গরম 

জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত বছর থেকে এই অবরোধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবরোধ সাত দিন কমিয়ে ৫৮ দিন ধার্য করা হয়। গত বছর ১১ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই নতুন সময়সীমা কার্যকর করা হয়, যা চলতি বছরেও বহাল রাখা হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় সরকার বিশেষ সহায়তা দিয়ে আসছে। উপকূলীয় ১৪ জেলার ৬৭ উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরের মোট ৩ লাখ ১১ হাজার ৬২ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে ৫৮ দিনের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হবে।

মাছের প্রজনন রক্ষায় ২০২৫ সালে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোট ৩ হাজার ৫৮৫টি অভিযান পরিচালিত হয় এবং ১৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৫ হাজার ২১৯টি জাল জব্দ করা হয় এবং ৮১ দশমিক ৬২ টন মাছ জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৫টি নৌযান জব্দ করা হয়। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ৫৫টি মামলা করা হয়, ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ৩৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এনএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।