‘আল্লাহ যদি আমার হজ কবুল করেন, জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই’
‘সিটি করপোরেশনে চাকরি করতাম, অবসরে গিয়েছি। পেনশনের টাকা পাওয়ার পর হজে যাচ্ছি। পবিত্র ভূমিতে যেতে পারছি, এটি খুবই ভালো লাগছে। এটি একটি বড় পাওয়া, আল্লাহ যদি আমার হজ কবুল করেন, এই জীবনে আর কিছু আমার চাওয়ার নাই। এই হজটাই চাচ্ছি। এটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া। এর ওপরে আর কিছু পাবো না।’
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন মোহাম্মদপুরের আজিজুর রহমান। স্ত্রীসহ হজে যাচ্ছেন তিনি। সিটি করপোরেশনের সাবেক এই কর্মকর্তা নিজের পেনশনের টাকায় স্ত্রীসহ হজে যাচ্ছেন। কথা বলার সময় তিনি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে হজ কবুলের দোয়া করছিলেন। একইভাবে পবিত্র এই ধ্বনিতে এখন মুখর রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হজক্যাম্পের চিরচেনা চিত্র অনেকটা পাল্টে গেছে। আশপাশের সড়কগুলো আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। ক্যাম্পে কাওলা হয়ে প্রবেশ করতে হয় ও বিমাবন্দরের পূর্ব পাশের সড়ক দিয়ে বের হতে হয়। বেশ কয়েকটি সড়কের কাজ নতুন করে হয়েছে। ক্যাম্পে প্রবেশের মূল ফটকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেলো। কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরাও।
সেখানে পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিটসহ কাগজপত্র দেখে হজক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পে প্রবেশের পর হজযাত্রীরা অপেক্ষা করেন হজ এজেন্সির কর্মীদের জন্য। প্রতিটি হজ এজেন্সির হজযাত্রীদের একসঙ্গে লাগেজে স্টিকার দেওয়ার পর তারা ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করতে পারেন। সেখানেও স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মীদের খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতেও খুব একটা সময় লাগছে না।
চট্টগ্রামের শেখ আহমেদ লিটন নামে একজন বলেন, ‘আল্লাহ পাক আমাকে ডাক দিয়েছেন। আমি যেতে চাচ্ছি, আল্লাহ পাক আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য আল্লাহর প্রতি আমি গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করছি। আমার অতীত জীবনে আমি অনেক অপরাধ, অন্যায়, অনেক খারাপ কাজ করেছি। আমি করিনি, এমন কোনো কাজ নাই। সুতরাং আমি মনে করি আল্লাহ পাক আমাকে যেহেতু ডাকই দিয়েছেন, আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার জন্য, সেহেতু আল্লাহ পাক এই হজের উসিলায় আমাকে হজে মাবরুর দান করবেন।’

হজক্যাম্পে কথা হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করা শেখ আহমেদ লিটন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত আগস্টে ওমরাহ করে এসেছি। এবার হজে যাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমার হজ কবুল করেন। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবিরা, আল্লাহু আকবার কাবিরা। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা...’
কথা হলো প্রথমবারের হজে যাওয়া শাহীন মিয়ার (৩৫) সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘মা, মামা ও মামি আমরা একসঙ্গে হজে যাচ্ছি। আব্বা সরকারি চাকরি করতেন। পেনশনের টাকায় আমি ও আম্মাকে হজে যেতে ওসিহত করে গেছেন। আমরা এবার হজে যাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমাদের হজ কবুল করেন, পরবর্তীসময়ে হজের সবকিছু ধরে রাখতে পারি, সেই তাওফিক দান করেন।’
ভোলার ব্যবসায়ী শাহজাহান এবার প্রথমবারের হজে যাচ্ছেন। জাগো নিউজকে শাহজাহান বলেন, ‘হজ করতে যেতে পারছি বলে খুবই ভালো লাগছে। পবিত্র ভূমিতে যাবো, আল্লাহর ঘর জিয়ারত করবো। ভালোই লাগছে, অনেক খুশি লাগছে। কিন্তু জানি না যাওয়ার পরে কী অবস্থা হয়, সেটা ওখানে যাওয়ার পরে বুঝতে হবে। এখন তো আর বোঝা যাচ্ছে না। এখন তো ভালোই লাগছে।’
হজক্যাম্পের পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত দেখলাম ভালোই। সবাই হেল্পফুল। এখানে হেল্পফুল ছেলেরা। ইন্টারমেডিয়েট পড়ুয়া ছেলেরা আছে। তারা এগিয়ে এলো। আমাদের লাগেজগুলো এক করে দিলো, তারপর আমরা র্যাপিং ট্যাপিং করে নিয়ে আসতে পারলাম, ভেতরে চলে আসলাম কোনো সমস্যা নেই।’
স্ত্রীসহ এবার হজে যাচ্ছেন মোহাম্মদপুরের আজিজুর রহমান। তিনি সিটি করপোরেশনে চাকরি করতেন। পেনশনের টাকায় হজে যাচ্ছেন। আজিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে চাকরি করতাম, অবসরে গিয়েছি। পেনশনের টাকা পাওয়ার পর হজে যাচ্ছি। পবিত্র ভূমিতে যেতে পারছি, এটি খুবই ভালো লাগছে। এটি একটি বড় পাওয়া, আল্লাহ যদি আমার হজ কবুল করেন, এই জীবনে আর কিছু আমার চাওয়ার নাই। এই হজটাই চাচ্ছি। এটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া। এর ওপরে আর কিছু পাবো না।’
ইএইচটি/এএমএ