জলবায়ুজনিত অভিবাসন জননীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: তথ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আরএমএমআরইউ আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসা মানুষের সমস্যা কেবল মানবিক বা সাময়িক সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই— এটি জননীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বিত করা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সংক্রান্ত অভিবাসীদের অভিযোজনগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন সমাধান’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক দুর্যোগও অভিবাসনের একটি বড় কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছে। আমরা জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করেছি। জনমানুষের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। বিজ্ঞান এখনো পৃথিবীর বাইরে মানুষের বাসযোগ্য কোনো গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই আমাদের এ গ্রহকে রক্ষা করতে হবে এবং বাসযোগ্য করেই রাখতে হবে।’

এসময় অভিবাসীদের দুর্দশা নিরসনে গবেষক ও সুশীল সমাজকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরএমএমআরইউ-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।

কর্মশালায় গবেষণার যুক্তি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের আঞ্চলিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার।

গবেষণা তথ্য তুলে ধরে ড. সিদ্দিকী বলেন, ‘মাইগ্রেশন মানেই শুধু ঢাকা নয়। আমাদের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে যে, এটি সঠিক সময়ে সঠিক পলিসি গ্রহণের বিষয়। খুলনা বা অন্যান্য অঞ্চলের শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসছে। যদি বিভাগীয় শহর বা জেলা পর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রি ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং রিজনাল গ্রোথ সেন্টার তৈরি করা যায়, তবে মানুষ নিজের এলাকাতেই তাদের আয় বাড়াতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসীরা কেবল অর্থনৈতিক কারণেই আসে না, বরং অনেকে রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতেও শহরমুখী হন।’

জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বাধীন সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের গবেষণা উপদেষ্টা ড. ফ্রাঙ্ক ভলমার দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য নিয়ে একটি উপস্থাপনা পেশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অভিবাসন ও সুরক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা-তানিতা গ্রেমিঙ্গার বক্তব্য দেন।

আরএমএমআরইউ-এর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বিশিষ্ট স্থপতি ইকবাল হাবিব, ক্যারিতাস-এর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা এবং গ্লোবাল ইনসাইটস ম্যানেজার ড. থান্নালেচিমি হাউসেট।

কর্মশালায় যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য এবং অভিবাসীদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন নিশ্চিতে নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এমএএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।