নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কায় সবকিছুতে আপস করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১২ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ/ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কারের বাহানায় নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সবকিছুতে আপস করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের স্বার্থে অনেক কথা বলেননি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সেজন্য সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। একত্র হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে।’ 
 
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যখন এই অবৈধ, অসাংবিধানিক আদেশ রাষ্ট্রপতি জারি করলেন, আমরা স্টান্ডিং কমিটি গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি- বিএনপি এবং যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে অন্য যারা আছেন তারা কেউ জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু মানতে রাজি নই। এটার রেকর্ড আছে, ভিডিও আছে, প্রেসে আছে। সব জায়গায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক-ব্যক্তির স্বাধীনতার নামে যা চলছে, এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, আমরা যদি নিজে নিজে নিয়ন্ত্রণ না হই, এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। কিছু আছে দেশে, কিছু আছে বিদেশে আর কিছু আছে ঘরের মধ্যে। মনে হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র বাকস্বাধীনতা তাদেরই আছে। আর আমরা এখানে সব নিরীহ জনগণ। কাউন্টার করলে আরও গালিগালাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্ত্রী-কন্যাকে জড়িয়ে যেভাবে স্বাধীনতার নামে কুৎষিত কলঙ্কিত ধারা চলছে, এটা চললে আমরা বেশি দূর এগুতে পারবো না। আমাদের কালচারটা নষ্ট হয়ে যাবে, ধর্মীয় সম্প্রতি নষ্ট হয়ে যাবে, অনাচার হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নবীন বন্ধুদের বলবো, একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে একটি দল নিঃশেষ হয়ে গেছে। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমরা সবাই জুলাইয়ের চেতনাকে যেন রাজনৈতিক ব্যবসা হিসেবে বিক্রি না করি। জুলাই আমাদের সবার। আমরা নেবো এর চেতনাটা। আমরা যেন কৃতিত্ব না নিয়ে এর চেতনা নিই। ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সবাই এর কৃতিত্বের দাবিদার। আমরা সবাই ভাগিদার।’

‘আমরা নিজেদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, একাত্তার-বাহাত্তর করতে করতে স্মৃত-বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সময়কালের নির্যাতন-নিপীড়ন ও লুটপাটের কাহিনী ভুলে যাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।
 
বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এতে দুটি লাভ আছে। একটা হচ্ছে দায়িত্ববোধ বাড়ে। আর উজিরে খামাখা অথবা মন্ত্রী মন্ত্রী ভাবের একটা সুখ পাওয়া যায়। তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই। আমার বিপরীতে বোধহয় সোজাসুজি আছেন- হোম মিনিস্টার স্যাডো। আসুন স্যাডো মিনিস্ট্রি হিসেবে আমরা পরস্পর তথ্য বিনিময় করবো, যোগাযোগ রাখবো, কথা বলবো।’

সংস্কার কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের কিছু বড় ভাই-বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তারা মাথায় টুকরিভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে আমাদের সংস্কার কমিশনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে। এখানে বলা হয় নোট অব ডিসেন্টের বিষয় ছিল না। ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিনই সিদ্ধান্ত হয়, নোট অব ডিসেন্ট সহকারে জুলাই সনদ প্রণীত হবে। সেই নোট অব ডিসেন্ট সহকারে স্বাক্ষর হয়েছে। আপনারা স্বাক্ষর করেছেন। আমরাও করেছি। আসুন সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি।’
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শিশু মুক্তিযোদ্ধা। তাকে আমি স্বাগতম জানাই। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন, সেটা আমার ভালো লাগে। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও ওই পাড়ে আছেন।’

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিহীন অবস্থায় রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ছিল ভেতরে-বাইরে দুইদলের সমর্থনে। একদল ছিল যমুনার অভ্যন্তরে। আরেকদল ছিল যমুনার কিনারে। তারা এখন বলতে পারে আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম। এখন নাই। আগে যা ভালো ছিল, তা হঠাৎ করে মন্দ হলো কীভাবে? এটা স্ববিরোধিতা।’

এমওএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।