ভিড় নেই ঢাকার কোনো পাম্পে, মিনিটেই মিলছে তেল 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ০১ মে ২০২৬
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে তেল/ছবি জাগো নিউজ

মিজানুর রহমান ঢাকায় মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করেন। এতদিন জ্বালানি তেল নিতে তার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো পাম্পে। কোনো কোনো দিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লেগেছে তেল নিতে। তবে আজ শুক্রবার মিজানুর দেখলেন ভিন্ন এক চিত্র। রাজধানীর আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তার তেল নিতে সময় লাগলো মাত্র সাত মিনিট।

মিজানুরের মতো অসংখ্য রাইড শেয়ার করা চালক এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইকচালকদের এতদিন রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোনো পাম্পেই ভিড় নেই। সহজেই তেল নিতে পারছেন বাইকাররা। পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসগুলোও ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তেল পাচ্ছে।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর মিরপুর, আসাদগেট, শাহবাগ, রমনাসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন নেই, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব পরিবহন তাদের চাহিদামতো জ্বালানি নিচ্ছে।

jagonews24

আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা হাবিব রহমান জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহেও তেলের জন্য কয়েকটা পাম্প ঘুরতে হয়েছে। আজ এসে দেখি ভিড় নেই। যতটুকু চেয়েছি ততটুকুই পেয়েছি। কোনো লিমিট নেই দেখে ভালো লাগছে।

আসাদগেটের আরেক ফিলিং স্টেশন মেসার্স তালুকদার পাম্পে দেখা যায়, মাত্র দুটি মোটরসাইকেল রয়েছে তেল নিতে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস রয়েছে সাত থেকে আটটির মতো।

এই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী দিদারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আজ মোটামুটি মাছিই মারতে হচ্ছে। কোনো ভিড় নেই। যে আসছে খুব সহজেই এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তেল পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের যেমন কিছুটা স্বস্তি হয়েছে চালকদেরও সুবিধা হয়েছে।

jagonews24

নীলক্ষেতের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি নিতে আসেন আজিজুর রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এক সপ্তাহ আগেও গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়ালে রাস্তা ব্লক হয়ে যেত, ট্রাফিক পুলিশের কথা শুনতে হতো। এখন পাম্পের ভেতরে গাড়ি রাখার জায়গা খালি পড়ে আছে। তেল নিতে কোনো ঝামেলা হলো না।

রাজধানীর শাহবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয়টি মোটরসাইকেলের লাইন। তাদের মধ্যে ইকবাল ইমন নামের একজন মোটরসাইকেল চালক জাগো নিউজকে বলেন, গত এক মাসে তেল নিতে যে পরিমাণ যুদ্ধ করা লেগেছে আজ পুরো উল্টো চিত্র। নেই কোনো লাইন নেই কোনো ভিড়। স্বাভাবিকভাবে তেল নিতে পারছি।

শফিকুল ইসলাম নামের আরেকজন বাইকচালক জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশে কিছু সিন্ডিকেটের কারণে মনে হয় এতদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরা লাগছে। গত দুইদিন আমি দেখেছি কোনো পাম্পেই ভিড় নেই। তাহলে এত লাইন এখন কোথায় উধাও হয়ে গেলো?

jagonews24

আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শংকর বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, গত তিনদিন লাইন কম। আজ আরও কম। ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল সবসময় লাইন থাকে। ফুয়েল পাস অ্যাপে তেল দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলে ১২০০ টাকার এবং প্রাইভেটকারে ফুল ট্যাংকি।

গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন সমন্বয় অনুসারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

টিটি/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।