প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

জঙ্গিবাদের কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ০৫ মে ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।’

একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে সেটাই তো শুনতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন বলেন, ‘আমি একটা মন্তব্য করেছি (দেশের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে), প্রায় একই সময়ে বা একটু পরে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন দেশে কোনো জঙ্গি নেই। আপনারা যদি পড়ে দেখেন, দেখবেন ওনার বক্তব্য আর আমার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা ছিল না। এটা হলো প্রথম কথা—মানে আমরা তো আসলে ফটোকার্ড করি এখন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এভাবে বলেছি যে, জঙ্গিবাদ একটা অতিরঞ্জন ছিল আওয়ামী লীগের সময়, তারা এটা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। আবার কেউ কেউ ‘কিছুই নেই আমাদের দেশে’ এ ধরনের বলে, দুটোই কিন্তু নেগেটিভ। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কিন্তু বলেছেন যে কিছু এক্সট্রিমিজমের অস্তিত্ব আছে। মানে এই যে জঙ্গিবাদ আসলে উনি শব্দটা ব্যবহার করতে চাননি, ইনফ্যাক্ট আমি যা বলেছি ওনার বক্তব্যের সঙ্গে আসলে খুব বেশি ভিন্নতা নেই।’

আরও পড়ুন
জঙ্গিবাদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে সেটাই শুনতে হবে
দেশে জঙ্গি আছে, সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে
অতীতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জঙ্গিবাদ শব্দটি ব্যবহার করা হতো

‘সো, এটাকে আপনি জঙ্গিবাদ নামে বলুন অথবা উগ্রবাদ নামে বলুন—একটা লো ইনটেনসিটি (সীমিত পরিসরে) তো আছে, না হলে তো আমরা এই অ্যালার্ট করতাম না, আনতাম না। এবং এটা আছে, এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। প্রচুর কার্টুন-টার্টুন হয়েছে যে আমি নাকি ওনার চাইতে বেশি গোয়েন্দা তথ্য রাখি। অল রাইট, আমার ভালো লেগেছে দেখে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘কিন্তু রেড অ্যালার্ট যেহেতু এখনো আছে, তার মানে আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে এই ধরনের ঘটনায় সবসময় যে পাবলিকলি সব কথা সরকার বলবে, সেটা সবসময় হবে না। সরকার এগুলোর যে রিস্ক আছে, এগুলোর ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেওয়া সেগুলো নিচ্ছে—আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। সুতরাং যখন গ্রেফতার বা এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে, যেটা সরকার মনে করবে জানাবে আপনাদের, সেটা সময়মতো জানানো হবে। আমি এটুকু বলতে পারি যে রিস্কের কথা আগে বলা হয়েছিল, সেই রিস্ক নিশ্চয়ই এখন তার চাইতে অনেক কম, সেই রিস্ক কমে যাচ্ছে।’ 

‘কিন্তু এই জায়গাগুলো অনেক বেশি সেনসিটিভ, এ কারণেই এখন পর্যন্ত এটা (সতর্কতা) বহাল রাখা হয়েছে। এটা খুব বেশিদিন থাকবে বলে আমি মনে করি না।’ বলেন তিনি।

এখন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন ছিল। অফিসিয়ালি সেটি এখনো উইথড্র হয়েছে বলে জানি না। সেই বিষয়ে কোনো আপডেট আছে কি না বা কতদিন থাকবে? জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা অফিসিয়ালি উইথড্র হয়নি আপনারা জানেন। তবে এটা হয়েছে যে, তাদের যে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল, সেটা কিন্তু আর নেই। তার মানে এখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। এটা আর খুব বেশিদিন... এটা আমি আমার জায়গা থেকে বলছি, আমি এটা খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানাতে পারবো। আমি মনে করি না এটা খুব বেশিদিন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের যে ফ্র্যাজাইল আইনশৃঙ্খলা অবস্থা ছিল, সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীর মানে অফিসিয়ালি থাকা— মানে এটার একটা সিম্বলিক ভ্যালু আছে। আমাদের মানুষজনের ডিটারেন্ট হিসেবে এটা ভালো কাজ করে। সেই কারণেই আছে। আমি আবারও বলছি, নির্বাচনের আগে-পরের মধ্যে বেসিক পার্থক্য হচ্ছে আগে তারা নিজেরা অ্যারেস্ট করতে পারতেন, নিজেরা এসব স্টেপ নিতে পারতেন, সেটা নিচ্ছেন না। একসময় যে মিলিটারিকে নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্সের মতো রাখা হতো, টু সাম এক্সটেন্ট তারা সেভাবেই আছে এবং এটা আমি মনে করি না আর খুব বেশিদিন থাকবে।’

আরএমএম/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।